দক্ষিণ পূর্ব

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের কাঁচামাল আমদানি, ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০২ দুপুর
পঠিত : ৩৪
অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের কাঁচামাল আমদানি, ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

ছবি

অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল Cellulose Acetate Tow আমদানির ঘটনায় ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। একই চালানের পণ্য স্থানীয়ভাবে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত হলে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারত বলে প্রাথমিক হিসাবে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিআইসি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে Unique Traders নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চালানটি আমদানি করা হয়। পরে যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত ঠিকানায় কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম না থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় চালানটির খালাস স্থগিত করে আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়।

সিআইসি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিল অব এন্ট্রি নম্বর C-1204710-এর মাধ্যমে দুই কনটেইনারে ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি Acetate Tow আমদানি করে। আমদানিকারকের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় চালানটির খালাস আটকে দেওয়া হয়। এতে আমদানি পর্যায়ে প্রায় ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব জড়িত ছিল।

সিআইসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিগারেটের ফিল্টার তৈরিতে ব্যবহৃত Acetate Tow-এর এক কেজি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৭ শলাকা সিগারেট উৎপাদন সম্ভব। সেই হিসাবে ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার শলাকা বা ১০ শলাকার হিসাবে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার প্যাকেট সিগারেট উৎপাদন করা যেত।

সিআইসি জানায়, মিডিয়াম সেগমেন্টের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের খুচরা মূল্য ৯২ টাকা এবং মূসক ও সম্পূরক শুল্কসহ স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে প্রায় ৮২ শতাংশ রাজস্ব হার বিবেচনায় নিলে এ পরিমাণ সিগারেটের সঙ্গে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারে। একই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে হাই সেগমেন্টের সিগারেট উৎপাদন হলে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে।

এদিকে সিআইসির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে Unique Traders আলোচ্য চালানসহ মোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৭ কেজি Acetate Tow আমদানি করেছে। বিপুল পরিমাণ এ কাঁচামালের প্রকৃত ব্যবহারকারী, সরবরাহের গন্তব্য ও ব্যবহার নিয়ে এখন যাচাই-বাছাই চলছে।

সিআইসি আরও জানিয়েছে, Acetate Tow আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোর নিবন্ধিত ঠিকানায় বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই বলে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগ জানিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন ও প্রয়োজনীয় দলিলও দাখিল করছে না।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইসির ধারণা, কিছু প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নিবন্ধন নিয়ে উচ্চ রাজস্ব সংশ্লিষ্ট Acetate Tow আমদানি করে পরে তা অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করে থাকতে পারে। এর ফলে আমদানি পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়েও বড় ধরনের রাজস্ব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত ব্যবহারকারী, সরবরাহের গন্তব্য, বিক্রয়, আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই চলছে। জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে Acetate Tow-এর আমদানি ও সরবরাহ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকে সরবরাহ চেইন যাচাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর। আমদানিকারকের প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি পণ্যের ব্যবহারকারী, সরবরাহের গন্তব্য এবং পরবর্তী বিক্রয় বা হস্তান্তরের তথ্য অনুসরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিআইসির দাবি, তাদের হস্তক্ষেপে একটি চালান থেকে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রায় ৩২৪ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।