দক্ষিণ পূর্ব

কথা রাখলেন চসিক প্রশাসক শাহাদাত, উদ্বোধন হলো আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:০৫ দুপুর
পঠিত : ৩৬
কথা রাখলেন চসিক প্রশাসক শাহাদাত, উদ্বোধন হলো আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে শিশু-কিশোরদের জন্য নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কর্ণফুলী শিশুপার্ক চালুর পর এবার পার্কসংলগ্ন আবদ্ধ জায়গাটিকে আধুনিক খেলার মাঠে রূপান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ৯২ দশমিক ৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত আগ্রাবাদ জাম্বুরি খেলার মাঠ।

dokkhinpurbo-com.6d23a04236c4b0f9f54c056f0933fac7.webp?v=1794063929

২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর চসিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগ্রাবাদের কর্ণফুলী শিশুপার্ক পরিদর্শনে যান ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি বন্ধ পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে পার্কটি দ্রুত চালু করার পাশাপাশি পাশের আবদ্ধ জায়গাটিকে শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠে রূপান্তরের ঘোষণা দেন।

তাঁর উদ্যোগে সংস্কার ও আধুনিকায়নের পর ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক’ নামে পুনরায় চালু হয় কর্ণফুলী শিশুপার্ক। এবার পার্কসংলগ্ন জায়গায় খেলার মাঠ নির্মাণের মধ্য দিয়ে পূরণ হলো তাঁর দেওয়া আরেকটি প্রতিশ্রুতি।

শনিবার নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ এবং কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাঠটির উদ্বোধন করেন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রায় ৯২ দশমিক ৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত মাঠটির উন্নয়নকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর। প্রশাসকের অনুরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। মাঠে খেলাধুলার উপযোগী অবকাঠামোর পাশাপাশি গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, ওয়াশরুম ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ফ্লাডলাইট ও ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১টি মাঠ প্রস্তুত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা ৮২টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।

জাম্বুরি মাঠের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, জায়গাটির বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এখানে বহুতল ভবন কিংবা প্লট তৈরি করে বিপুল অর্থ আয় করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নগরবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় সে পথে না গিয়ে জায়গাটি খেলার মাঠ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলা এবং নগরবাসীর সুস্থ বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরি করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে এখানে এসে শিশুপার্কটি বন্ধ এবং পাশের জায়গাটি আবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। তখনই পার্কটি চালু ও পাশের জায়গাকে খেলার মাঠে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

মাঠটি নির্মাণে সহযোগিতার জন্য ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রশাসক। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংগঠক, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নগরীর তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু মুখে অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বললে হবে না। তরুণদের জন্য খেলার মাঠ, খেলাধুলার উপকরণ ও বিনোদনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই তারা অপরাধের পথ ছেড়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে এগিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখারও অন্যতম উপায়। নিয়মিত খেলাধুলা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমায় এবং সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

নিজের চিকিৎসক পরিচয় তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, সুস্থ জীবন গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তিনি ভালোভাবেই বোঝেন। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ও অনলাইননির্ভর জীবন থেকে বের করে মাঠমুখী করতে চান তাঁরা। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ প্রজন্মই আগামী দিনের সুন্দর সমাজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, ইতোমধ্যে হালিশহর এইচ ব্লক ও ফিরোজশাহ এলাকায় মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাদারবাড়ি বালির মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম, বাকলিয়া স্কুল মাঠ, পাহাড়তলী খেলার মাঠ, মহসিন কলেজ মাঠ, প্যারেড মাঠ, আমবাগান মাঠ ও পাহাড়তলী কলেজ মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এসব মাঠ উদ্বোধন করা হবে।

এ ছাড়া প্রচলিত খেলার মাঠের পাশাপাশি ফুটসালসহ আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি সহযোগিতায় নগরীর তরুণদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নবনির্মিত মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসক বলেন, শুধু মাঠ নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। মাঠটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে হবে। যাতে মাদকাসক্ত কিংবা অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা এখানে আড্ডা জমাতে না পারে, সে বিষয়ে এলাকাবাসী, ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মাঠটি শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্যই ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি সুন্দর নগরী গড়তে সড়ক, ড্রেন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান না থাকলে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মাঠ ও বিনোদনকেন্দ্র উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।