দক্ষিণ পূর্ব

শফিকুর রহমানকে জবাব মেয়র শাহাদাতের

‘আমার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত, নির্বাচন হলেই সরে যাব’

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:১১ বিকাল
পঠিত : ৫২
‘আমার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত, নির্বাচন হলেই সরে যাব’

ছবি

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, জামায়াতের লংমার্চকে তিনি ‘লং ড্রাইভ’ হিসেবে দেখেছেন। একই সঙ্গে নিজের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় শফিকুর রহমানের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন মেয়র শাহাদাত।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, লালদিঘী ময়দানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলেছেন। তার দাবি, আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তিনি বৈধভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্বে রয়েছেন।

মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী রাজত্ব যারা ১৬ বছর কায়েম করেছে, সেই সময় আমার ভোটের রায় ছিনিয়ে নিয়ে রেজাউল করিম অবৈধভাবে মেয়র হয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। আদালতের রায়ে আমাকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে এবং আমি শপথ নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নেওয়ার দিন থেকে স্বাভাবিকভাবেই ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে। আদালতের রায়েও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সময়ের মেয়র অবৈধ ছিলেন এবং তার মেয়াদও অবৈধ।’

শাহাদাতের দাবি, মেয়র পদ নিয়ে তিনি তিন বছর ধরে আইনি লড়াই করেছেন। এ সময় তাকে প্রায় ছয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে মেয়র বলেন, ‘ওনার এই বক্তব্যে আমি সত্যিই বিস্মিত হয়েছি। আমি মনে করি, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচিত রেজাউল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে এক ধরনের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে অনেকটা সমর্থন করা হয়েছে।’

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন মেয়র শাহাদাত। তিনি বলেন, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি নির্বাচনের পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘যদিও আদালতের রায় অনুযায়ী আমার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত, কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ যখনই চট্টগ্রামসহ সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে, সেদিনই আমি আমার পথ থেকে নিজেই সরে যাব। আমি একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাব।’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে এবং অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই তিনি চান।

এর আগে শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে একজন মেয়র আছেন। উনার মেয়াদ কি এখনো আছে? উনাকে কি আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ বলব না? এখন শুনে যাবেন, উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। বলেন, এর নাম সুশাসন, না এর নাম ফ্যাসিবাদ?’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন—আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।’

এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন।

আরএইচ/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।