আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি করা হয়। পরে ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে কারাগারের ভেতরেই একদল সেনাসদস্য তাঁদের হত্যা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই চার নেতার হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় চার নেতার অবদান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের প্রকৃত অবদান ও ইতিহাস তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন ও পরবর্তী সময়ে জাতীয় চার নেতার যে অবদান, তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট দল বা সরকারের মধ্যে তাঁদের অবদান সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় যে দলই থাকুক, দেশের জন্য যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের যথাযথ সম্মান জানাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে যেন ইতিহাসের মূল পাঠ পরিবর্তিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জাতীয় নেতাদের অবদান জানাতে পাঠ্যপুস্তকে তাঁদের ভূমিকা নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এদিকে জেলহত্যার ২৮ বছর ১১ মাস পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর এ মামলার রায় দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। মামলার ২০ আসামির মধ্যে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
জেলহত্যা দিবসে জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁদের অবদান রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।