চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল না হলে বন্দর অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে কয়েক শ নেতা-কর্মী অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেও সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, আগামী ৮ অক্টোবর এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর হলে এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে জাতীয় স্বার্থ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার আগে এর আর্থিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকাশ করতে হবে।
একই সঙ্গে বন্দর শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
শ্রমিক নেতা তপন দত্ত জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দাবি মানা না হলে আগামী ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় বন্দর ভবনের সামনে থেকে মশাল মিছিল এবং ১৩ অক্টোবর বন্দর ভবন ও চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিকদের প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিও জানানো হয়।
কর্মসূচিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন, সংগঠনটির সাবেক সহকারী প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম বন্দর ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস কে খোদা টোটন, ডক বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ হারুন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জামাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।