দক্ষিণ পূর্ব

কেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কে-পপ, ব্যর্থ হলো সি-পপ

saiful
saiful
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৫৮ সকাল
পঠিত : ৫৭
কেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কে-পপ, ব্যর্থ হলো সি-পপ
Degchibarictg


দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতধারা কে-পপ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সাংস্কৃতিক প্রভাব তৈরি করেছে। অন্যদিকে, চীনের বিশাল জনসংখ্যা, বড় সংগীতবাজার এবং বিপুল প্রবাসী জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও চীনা পপ বা সি-পপ এখনো কে-পপের মতো বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।

টাইমের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পেছনে বাজারের আকার, বিদেশি দর্শকের রুচির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং শিল্পী-ভক্ত সম্পর্কের ওপর নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে বিটিএসের ‘আরিরাং’ বিশ্ব সফরের উত্তর আমেরিকা পর্বের শেষ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। ব্যান্ডটির তথ্য অনুযায়ী, ৩১টি কনসার্টের পুরো সফরে প্রায় ১৯ লাখ ২০ হাজার দর্শক অংশ নেন। একইভাবে এ বছর কে-পপের সাফল্য আরও স্পষ্ট হয়েছে ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ চলচ্চিত্রের গান ‘গোল্ডেন’-এর গ্র্যামি ও অস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য কে-পপ শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’-এর উৎস। কোরীয় সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা দেশটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

চীনও দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সাংস্কৃতিক সাফল্য অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। তবে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কে-পপের সমতুল্য কোনো সংগীতশিল্পী বা গোষ্ঠী তৈরি করতে পারেনি দেশটি।

চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্থনি ফাংয়ের মতে, চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারই এর অন্যতম কারণ। দেশটির কয়েকটি বড় শহরে কনসার্ট আয়োজন করেই শিল্পীরা বিপুল দর্শক ও আয় পেয়ে থাকেন। ফলে বিদেশি বাজারে প্রবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার ছোট হওয়ায় দেশটির বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলো শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক দর্শকের দিকে নজর দেয়। শিল্পীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, বিদেশি গীতিকার ও কোরিওগ্রাফারদের সম্পৃক্ততা এবং বৈশ্বিক দর্শকের রুচি বিবেচনায় রেখে কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে কে-পপকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়েছে।

ইউটিউবও কে-পপের বিশ্বব্যাপী বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১২ সালে সাইয়ের ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ ইউটিউবে এক বিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করলে বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। ভক্তরাই সামাজিক মাধ্যমে গান ও পারফরম্যান্স ছড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেন।

অন্যদিকে ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চীনে সীমিত বা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চীনা শিল্পীদের জন্য বৈশ্বিক দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া চীনের বিনোদন খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণও সি-পপের আন্তর্জাতিক বিস্তারে প্রভাব ফেলেছে। ২০২১ সালে দেশটির কর্তৃপক্ষ তারকাদের অনলাইন র‌্যাঙ্কিং বন্ধ, ফ্যান অ্যাকাউন্টের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইডল তৈরির টেলিভিশন অনুষ্ঠান নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। ফলে শিল্পী ও ভক্তদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

টাইমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কে-পপের বৈশ্বিক সাফল্যের পেছনে শুধু সরকারি সহায়তা নয়; বরং ছোট অভ্যন্তরীণ বাজার, বিদেশি দর্শকের প্রতি মনোযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সামাজিক মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার এবং শক্তিশালী ফ্যান সংস্কৃতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিপরীতে, চীনের বিশাল দেশীয় বাজার ও তুলনামূলক বেশি সরকারি নিয়ন্ত্রণ সি-পপের বৈশ্বিক বিস্তারে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।