দক্ষিণ পূর্ব

১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী ভিপি নাশরা নাঈম

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৬ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৩৮ দুপুর
পঠিত : ৪০
১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী ভিপি নাশরা নাঈম

ছবি

Degchibarictg

ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন মুসলিম তরুণী নাশরা নাঈম। দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জয় পেয়েছেন নারী প্রার্থীরা। এর মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদের পাঁচটিতেই বিজয়ী হয়েছেন নারীরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। উত্তর প্রদেশের গোরখপুরের বাসিন্দা নাশরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের (এলএলবি) শিক্ষার্থী। নির্বাচনে তিনি ৭ হাজার ৯১টি ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮ ভোট।

নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। তিনি চার হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হামদান।

প্রথমে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা থাকলেও ক্যাম্পাসের বাস্তবতা বিবেচনায় পরে ভিপি পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন নাশরা। তার বাবা শুরুতে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত পরিবার তাকে পূর্ণ সমর্থন দেয়।

নির্বাচনি প্রচারে শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য উন্মুক্ত পরিসর বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন নাশরা। তার মতে, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা জরুরি। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বিধিনিষেধের প্রভাব বুঝতে রাজনৈতিক সচেতনতার বিকল্প নেই।

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ও নির্বাচনি পরিবেশ পুনরুজ্জীবিত হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের ঘাটতি রয়েছে। ছাত্র সংসদ পুনরুজ্জীবিত হলে সেই শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।

২০১৯ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে ছাত্র সংসদ স্থগিত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। টানা তিন বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯ দিনের আন্দোলন ও এক শিক্ষার্থীর অনশন কর্মসূচির পর নির্বাচনের পথ খুলে যায়। গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ভোটগ্রহণ।

এএমইউ ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব এবং উইমেনস কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের মতে, চলমান ‘জেন-জি’ আন্দোলনের প্রভাবও পড়েছে এবারের নির্বাচনে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আগের বছরগুলোর মতো কেবল ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়ায় প্রচার সীমাবদ্ধ ছিল না। এবার দেশের সামগ্রিক রাজনীতি এবং মুসলিম সম্প্রদায়-সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন। তিনি নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠানের ‘উচ্চ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের বিজয়’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানিয়ে নারী ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।