ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মেইল ট্রেনের পাওয়ারকার অপারেটরকে মারধর, লাঞ্ছিত এবং তার মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে বিক্ষোভ করেছেন রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। এতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ট্রেনের যাত্রা ব্যাহত হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হাসানপুর স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার অপারেটরের নাম বদিউল আলম। তিনি ২ ডাউন মেইল ট্রেনের পাওয়ারকার নম্বর-২০৫৭-এর দায়িত্বে ছিলেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ২ ডাউন মেইল ট্রেন। সোমবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি হাসানপুর স্টেশনে অবস্থানকালে জিআরপি পুলিশের টিজি পার্টির কনস্টেবল গফুর ও হুমায়ুনসহ সাদা পোশাকে থাকা আরও একজন পাওয়ারকারের দরজা খুলতে বলেন।
অপারেটর বদিউল আলমের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা যাত্রীসহ পাওয়ারকারের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তিনি তাদের নির্ধারিত আসনে বসার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, পাওয়ারকারে ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থাকায় জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া সেখানে করিডোর না থাকায় বারবার দরজা খোলা নিরাপদ নয়।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনজন তাকে পাওয়ারকারের ভেতরের মসজিদে লাথি মেরে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন বদিউল আলম। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিআরপি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসএলআর কোচে তাদের বসার জন্য চারটি আসন বরাদ্দ রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই আসনে না বসে পুলিশের সদস্যরা পাওয়ারকারের ভেতরের মসজিদে অবস্থান করেন। সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।
মারধরের পর আহত বদিউল আলম ফেনী স্টেশনে পৌঁছে বিষয়টি এসি অপারেটর আসলামকে জানান। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ট্রেন পরিচালক এস কে ঘোষকেও তিনি বিষয়টি অবহিত করেন। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পাওয়ারকারের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এর ফলে ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চলাচল করে। পরে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায়। সহকর্মীরা আহত বদিউল আলমকে উদ্ধার করে সিআরবি রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে সহকর্মীকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করেন রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। এ সময় ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ও ঢাকা অভিমুখী কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের চলাচল ব্যাহত হয়।
নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে। অন্যদিকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে গেলেও পরে পাহাড়তলী স্টেশনে প্রায় এক ঘণ্টা আটকা পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেশনে যান। পরে তিনি বিষয়টি চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) ও প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্ব)-কে অবহিত করেন।
তাকি আল যাওয়াদ বলেন, ‘আমরা বদিউল আলমের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা সনদসহ জিআরপি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করবেন।’
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, পাওয়ারকার অপারেটরকে মারধরের ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়তে বিলম্ব হয়। কর্ণফুলী এক্সপ্রেসও কিছু সময়ের জন্য আটকা পড়ে। পরে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মচারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। এর পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আর/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।