চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় স্বামীর পরকীয়ার বিষয়ে জেনে যাওয়ায় কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মীম আক্তার (২২) নামে ওই গৃহবধূ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে মীমের বাবা খোকন মিয়া ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মীমের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া ইউনিয়নে। তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটের বকুলতলা এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মীমের আগের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রথম বিয়ের বিচ্ছেদের পর প্রায় চার মাস আগে মেহেদী হাসানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা নগরের ডবলমুরিং থানার নাজিরপুল এলাকার আব্দুল মালেকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি মেহেদীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন মীম। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি হতো। ঘটনার আগের দিন শুক্রবার এক নারীর সঙ্গে মেহেদীর আপত্তিকর একটি ভিডিও মায়ের কাছে পাঠিয়ে সংরক্ষণ করতে বলেন মীম। ওই রাতেও এ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মীমের চিৎকার শুনে তাঁর বাবা ও স্বজনেরা ঘরে ছুটে যান। সেখানে তাঁরা মীমের শরীরে আগুন জ্বলতে দেখেন। এ সময় ঘরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্বামী মেহেদী। পরে পরিবারের সদস্যরা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মীমের মা লাকি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মীম শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছিলেন। স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের সংসারে অশান্তি চলছিল। ঘটনার পর তাঁদের ঘরের বিছানা, বালিশসহ বিভিন্ন স্থানে পোড়া চিহ্ন দেখা গেছে।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ ফয়সাল জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।