দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ইয়াঙ্গুন ও সীথওয়ে বন্দরের যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:২১ দুপুর
পঠিত : ২৫
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ইয়াঙ্গুন ও সীথওয়ে বন্দরের যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ

ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও সীথওয়ে বন্দরের নৌযোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বাড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকার।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ। সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মিয়ানমারের জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কিয়াও সোয়ে মো বলেন, রাশিয়ার সহযোগিতায় দেশটিতে এলএনজি হাব গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো গেলে মিয়ানমার থেকে এলএনজি ও বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চাল, আদা, রাবার ও মাছসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, রাসায়নিক ও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমারে পাঠানো যেতে পারে। এ ছাড়া ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ী পর্যায়ের সম্পর্কও নিয়মিতভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং নৌযোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়েও দুই দেশের সরকার কাজ করছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম ও মিয়ানমারের মধ্যে উপকূলীয় নৌপথের পাশাপাশি সড়ক ও সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চেম্বার সভাপতি বলেন, চট্টগ্রাম এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সম্প্রসারণে সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইয়াঙ্গুনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেরও সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সক্ষমতা ও তুলনামূলক সুবিধা কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। মিয়ানমারের কৃষি ও মৎস্য খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগ হলে উভয় দেশই লাভবান হবে।

মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ভিসা জটিলতা নিরসন, নৌ-প্রটোকল স্বাক্ষর এবং অর্থ লেনদেনের জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব, মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সেলর হতেত মিয়াত লুইন, মিয়ানমারের অনারারি কনসাল জেনারেল এ এইচ এম হাকিম আলী, চেম্বারের পরিচালক আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ারসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।