চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু আইসিইউতে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯:৪৫ মিনিটে রোগীর স্বজন ও একদল সন্ত্রাসীর এই হামলায় অন্তঃসত্ত্বা চিকিৎসকসহ অন্তত ৬ জন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), চট্টগ্রাম শাখা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর বাবা এম.এ তাহের এবং মামা হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন যুবক উত্তেজিত হয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর রড দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ডিউটিরত চিকিৎসক ডা. দীপাঞ্জনা দাশ ও ডা. সাবা দেবী গুরুতর আহত হন।
জানা গেছে, ডা. দীপাঞ্জনা দাশ একজন অন্তঃসত্ত্বা চিকিৎসক; তিনি এই ভয়াবহ হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ সময় সহকর্মীদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীদের হামলায় আরও আহত হন ডা. আদিত্য সেন, ডা. অমিত দাশ, ডা. ইন্দ্রজিৎ ঘোষ এবং ডা. ইমতিয়াজ সোবহান। খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্রুত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং চিকিৎসকদের উদ্ধার করেন।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে আজ এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিবৃতি প্রদান করেন ড্যাব চমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ফয়েজুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ তমিজ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বেলায়েত হোসেন ঢালী এবং মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ আব্বাস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ইফতেখারুল ইসলাম।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারী এম.এ তাহের ও হেলাল উদ্দিনসহ জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে, সরকারি ও বেসরকারি সকল হাসপাতালে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
ইই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।