দক্ষিণ পূর্ব

ছাত্রদল নেতা

‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন, এরপর পিটিয়ে বের করব’

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৯ সকাল
পঠিত : ৫৭
‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন, এরপর পিটিয়ে বের করব’

বাম পাশে ছাত্রদল নেতা ডান পাশে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা

Degchibarictg

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে হল থেকে পিটিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হলটির ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগের পর হল প্রশাসনের এক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা নাছিম উদ্দিন দাবি করেছেন, তাকে গালিগালাজ করার পর উত্তেজিত হয়ে তিনি ওই কথা বলেছেন।

হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলমসহ হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে যান। পরে কক্ষে অবৈধভাবে কোনো শিক্ষার্থী থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হল সংসদের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়।

ভিপি রিপুল চাকমার অভিযোগ, একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা নাছিম উদ্দিন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করব।’

রিপুল চাকমা বলেন, ‘রোববার আমি দেখি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন হলে এসে বলছে, সে ৩১৩ নম্বর রুমে উঠেছে। এ নিয়ে আমি গ্রুপে কথা বলি। পরে স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। সেখানে একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রুম নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে। এখানে বিশেষ বিবেচনায় সিট দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক রুমে চারটি করে সিট থাকলেও তারা সেখানে পাঁচটি সিট নিয়েছে। আমাদের প্রার্থনা রুম থেকে একটি থাকার সিট নিয়ে সেখানে দেওয়া হয়েছে। এই হলেই সিট বরাদ্দের সময় রুম খালি রেখে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রুম দেওয়া হয়েছে।’

নাছিম উদ্দিনের পক্ষ থেকে গালিগালাজের অভিযোগ প্রসঙ্গে রিপুল চাকমা বলেন, ‘আমি কক্ষে কাউকে গালি দিইনি।’

তবে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা নাছিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাকে এই হুমকি দিয়েছি। আসলে বিষয়টা তখন হিট অব দ্য মোমেন্ট ছিল। তখন সে খারাপ ব্যবহার করছিল, তখন বলেছি আরকি। ওই সময় তার কিছু ছেলে-পেলে ছিল। সে আমাকে এবং আমার আম্মাকে বাজে ভাষায় বকছে। তাকে তো এই রাইটস কেউ দেয়নি। সে ভিপি হোক বা যাই হোক, একজন স্টুডেন্টকে সে বাজে ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। ওর সঙ্গে এক ছেলে ছিল, কী যেন চাকমা নাম, ওইটাই আগে বাজে ভাষায় বকছে। তারপর আমার রাগ উঠছে।’

এ বিষয়ে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু রুমে যারা থাকে তারা জানায়, অবৈধ কেউ নেই, তারা অতিথি ছিল। এরপর কথা-কাটাকাটি হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।