দক্ষিণ পূর্ব

চার অঙ্গ অচল কুরবান চেয়েছিলেন হুইলচেয়ার, গণশুনানিতেই কিনে দিলেন ডিসি জাহিদ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
পঠিত : ২৪
চার অঙ্গ অচল কুরবান চেয়েছিলেন হুইলচেয়ার, গণশুনানিতেই কিনে দিলেন ডিসি জাহিদ

কুরবান আলীর হাতে তুলে দিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

চার বছর আগে ট্রাক দুর্ঘটনায় দুই হাত ও দুই পা অচল হয়ে যায় মো. কুরবান আলীর। একসময় ট্রাকের হেলপার হিসেবে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে সংসার চালালেও দুর্ঘটনার পর হারান কর্মক্ষমতা। এখন চলাফেরা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজেও তাঁকে নির্ভর করতে হয় অন্যের ওপর। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েই তাঁর দেখাশোনা করেন।

স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার জন্য একটি ইলেকট্রিক হুইলচেয়ারের আবেদন নিয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হন কুরবান আলী।

গণশুনানিতে তাঁর অসহায়ত্বের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এরপর অপেক্ষায় না রেখে শুনানি চলাকালেই একটি ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার কেনার ব্যবস্থা করেন তিনি। শুনানি শেষ হওয়ার আগেই হুইলচেয়ারটি এনে কুরবান আলীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তাও।

যে হুইলচেয়ারের আশায় জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছিলেন কুরবান, সেটি নিয়েই সেদিন বাড়ি ফেরেন তিনি।

কুরবান আলীর মতো আরও কয়েকজন অসহায় মানুষ এদিন চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে উপস্থিত হন।

হাটহাজারীর তানভীর হাসান তাঁর ক্যান্সারে আক্রান্ত মা রুবি আক্তারের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিসিটিভি অপারেটর হিসেবে কর্মরত তানভীর জানান, সীমিত আয়ে মায়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক।

বাঁশখালীর মো. সেলিম উদ্দীন জন্মগত শারীরিক জটিলতা ও দৃষ্টিহীনতায় ভোগা ছেলে মো. শাহরিয়ার আদনানের উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলেকে ভারতে নিতে সাত থেকে আট লাখ টাকা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি। মানবিক বিবেচনায় তাঁর পাশেও দাঁড়ান জেলা প্রশাসক।

এ ছাড়া চিকিৎসার জন্য মিরসরাইয়ের আবদুল্লাহ আল ফয়সাল এবং দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে প্যারালাইসিস, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জটিলতায় ভোগা নগরের ইপিজেড এলাকার মো. মুজিবুল আলমকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পা অচল হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া মো. ইউছুফকেও দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা।

কেউ এসেছিলেন নিজের চিকিৎসার জন্য, কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে, আবার কেউ দৃষ্টিহীন সন্তানের উন্নত চিকিৎসার আশায়। সংকট সবার আলাদা হলেও প্রত্যাশা ছিল একই—দুঃসময়ে রাষ্ট্রের সহযোগিতা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা একে একে তাঁদের কথা শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

একটি হুইলচেয়ার কুরবান আলীর অচল হাত-পা ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে এটি তাঁর চলাফেরায় অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা হলেও কমাতে পারে। একইভাবে আর্থিক সহায়তার অর্থ হয়তো দীর্ঘ চিকিৎসার পুরো ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়, কিন্তু সংকটের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে রাষ্ট্র দাঁড়িয়েছে—এই বার্তাটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অসহায় মানুষের কথা সরাসরি শুনে সম্ভব হলে অপেক্ষা না করেই তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার এমন কর্মকাণ্ডের কারণে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনেকের কাছে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

আরএইচ / দক্ষিণপূর্ব

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।