রফিক হায়দার:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগের ফলে বান্দরবানের রাজার মাঠে রাজার মত সমাবেশ করার সুযোগ দিয়েছে মহান আল্লাহ। ১৮ বছর জনগনের বিরুদ্ধে, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে জামায়াত শিবিরের উপর যে হারে জুলুম নির্যাতন করা হয়েছিল । ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার আক্রমনের মাধ্যমে গনতন্ত্র ভোটাধিকার, চাকুরী বাকরি নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। এই ফ্যাসিবাদীরা তিনবার জনগনের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মধ্যে কোন ধরনের বৈষম্য থাকবেনা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় বান্দরবান ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে জামায়াতে ইসলামী বান্দরবান জেলার কর্মী ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বান্দরবান জেলা আমীর এস এম আবদুচ ছালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক হুইপ আলহাজ্ব শাজাহান চৌধুরী।
জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ মুজিব, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা, এরশাদ সহ অতীতের কোনো সরকার দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। জামায়েতে ইসলামী দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণ করে ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়।
কল্যান ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করা জরুরী। ফ্যাসিবাদকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে, ছাত্র সমাজ তা হতে দিবেনা এবং নতুন করে কোন ফ্যাসিবাদকেও বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া হবেনা।
তিনি বলেন, নির্বাচন আমরা চাই তবে তার আগে সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তার পরেই নির্বাচন করে ক্ষমতা হস্তান্তর মঞ্চ সাজিয়ে নির্বাচিত সরকারকে সাদরে গ্রহন করা হবে। ইসলাম ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তির কোন পথ নাই।
জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের শান্তির নিশ্চয়তা একমাত্র ইসলাম দেয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ৫ আগষ্টের রক্তাক্ত বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরশাসক পালিয়েছে। তারা খুন গুমসহ আয়নাঘর তৈরি করে দেশকে অন্ধকারে নিপতিত করেছিল। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে আমরা আজ মুক্ত ভাবে চলাফেরা করছি। বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের অফিস বন্ধ হয়েছে কিন্তু ভারতে অফিস চালু হয়েছে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে এদেশকে সম্প্রীতির দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রামকে সকল ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করে নতুন করে গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
চট্টগ্রাম মহানগর আমীর আলহাজ্ব শাজাহান চৌধুরী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের কারণে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ী বাঙ্গালী বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ী বাঙ্গালী উপজাতি এবং অ-উপজাতি ভেদাভেদ দূর করা হবে। পার্বত্য বাসী শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আবুল কালামকে এমপি পদে ভোট দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনীতি, ফ্যাসিবাদি শক্তি যাতে জন্ম নিতে না পারে তার জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, অঞ্চল টিম সদস্য নুরুল আমিন চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা আমীর অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল মোমেন, রাঙ্গামাটি জেলা আমীর অধ্যাপক আবদুল আলীম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদার, বান্দরবান জেলা নায়েবে আমীর এডভোকেট আবুল কালাম।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বান্দরবান সদর উপজেলা সভাপতি এডভোকেট মো:সোলাইমান, রোয়াংছড়ি উপজেলা সভাপতি এডভোকেট শাহাদাত হোসাইন, থানচি উপজেলা সভাপতি আমানত হোসেন, বান্দরবান পৌরসভা আমীর হারুনুর রশিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি ফারুখ আহমেদ, বান্দরবান জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি কলিম উল্লাহ।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা অধ্যাপক হামেদ হাসান, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ, অধ্যক্ষ্য রেজাউল করিম, আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।