দক্ষিণ পূর্ব

টাকা তোলার সুযোগ পেয়েও ৭১ শতাংশ গ্রাহক আমানত তুলেননি

saiful
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৩ দুপুর
পঠিত :
টাকা তোলার সুযোগ পেয়েও ৭১ শতাংশ গ্রাহক আমানত তুলেননি


দীর্ঘদিন আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। বরং ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমানত ফেরতের আবেদন করা গ্রাহকদের প্রায় ৭১ শতাংশই এখনো টাকা তোলেননি। একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা আমানত জমা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন গ্রাহক মোট পাঁচ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯০৭ জন গ্রাহক এক হাজার ৪৩১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। ফলে আবেদন করা গ্রাহকদের বড় অংশের অর্থ এখনো ব্যাংকেই রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতে টাকা উত্তোলনের আগ্রহ বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে আসে। ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক এক হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর আট হাজার ১২৫ জন ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

এদিকে ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩ জন গ্রাহক এক হাজার ১৬ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর সাত হাজার ২৩৪ জন ৩৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তী দুই দিনে গ্রাহকেরা যথাক্রমে ৩৮১ কোটি ও ৩৯১ কোটি টাকা তুলেছেন।

অন্যদিকে, টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ব্যাংকটিতে নতুন আমানতও বাড়ছে। ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর চার দিনে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ১৪১ কোটি, ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫ কোটি, ৯ সেপ্টেম্বর ২৪৪ কোটি এবং ১০ সেপ্টেম্বর ৩১৪ কোটি টাকা আমানত জমা হয়।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করেও গ্রাহকদের একটি বড় অংশ টাকা তুলছেন না। শাখা থেকে যোগাযোগ করা হলে অনেকেই পরে টাকা না তোলার সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছেন। এতে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের অর্থপ্রবাহ ও লেনদেন প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। নগদ লেনদেনের পাশাপাশি আরটিজিএস, বিএফটিএন ও ক্লিয়ারিং কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। বর্তমানে আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কমেছে।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। আমানত ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দিয়েছে। শুরুতে আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পান।

তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আমানত উত্তোলনের চাপ কমে যাওয়া মানেই গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে এসেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। নতুন ব্যাংকটির সামনে এখনো পরিচালন ব্যয় কমানো, শাখা ও জনবল পুনর্বিন্যাস, খেলাপি ঋণ আদায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করার মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।