দক্ষিণ পূর্ব

তেলের দাম বাড়তেই চট্টগ্রামে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৫২ বিকাল
পঠিত : ২৮
তেলের দাম বাড়তেই চট্টগ্রামে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা

ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর এক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বাড়তি ভাড়া নিয়ে চালক ও হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, চকবাজার, নিউমার্কেট ও অলংকার মোড় এলাকায় গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নগরের ১০ নম্বর রুটে দুই নম্বর গেট থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত আগে ১৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। তবে সোমবার কোনো কোনো বাসে এ দূরত্বের জন্য ২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মুরাদপুর থেকে আন্দরকিল্লা রুটে ১৫ টাকার পরিবর্তে ১৮ থেকে ২০ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা সি বিচ পর্যন্ত ১০ নম্বর রুটের নন-এসি বাসের নির্ধারিত ভাড়া ৬৮ টাকা হলেও কোনো কোনো বাসে ৮০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।

নগরের ১০ নম্বর রুটের একটি বাসে দুই নম্বর গেট থেকে আগ্রাবাদ যাওয়ার সময় ২০ টাকা নেওয়া হয় বলে জানান শিক্ষিকা শিউলি মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আগে এই দূরত্বের জন্য ১৫ টাকা দিয়েছি। আজ ২০ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাঁচ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। কেন বাড়ানো হয়েছে জানতে চাইলে বলা হয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে।’

মুরাদপুর থেকে আন্দরকিল্লা যাতায়াতকারী বেসরকারি চাকরিজীবী শাহদাত হোসেন বলেন, ‘পেট্রলচালিত টেম্পুতে আগে ১৫ টাকা ভাড়া দিতাম। এখন ২০ টাকা নিচ্ছে।’

যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক বাসে নতুন ভাড়ার তালিকাও টানানো হয়নি। ফলে চালক বা হেলপার নিজেদের মতো করে ভাড়া চাইছেন। প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

১০ নম্বর রুটের চালক শফিউল আলম বলেন, ‘কিছু কিছু বাসে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। আমরা ২৪ ঘণ্টা পর বর্ধিত ভাড়া নেব।’

এদিকে, গ্যাসচালিত বাসে গ্যাসের সংকটের সময় ভাড়া বাড়ানো হলেও সংকট কাটার পরও সেই ভাড়া কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে আরও বেশি ভাড়া নেওয়া শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মুখোমুখি অবস্থানে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা হবে।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এ বাড়তি ব্যয়ের চাপ ভোক্তার ওপরই পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।