দক্ষিণ পূর্ব

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৮ দুপুর
পঠিত : ২৯
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের

ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। পাশাপাশি উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ফলে দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে পরিবর্তন করা হয়। তবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার থেকে শাটডাউন ও গণঅবস্থান শুরু হয়। বুধবারও তা অব্যাহত রয়েছে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের পক্ষে তাঁদের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা শুনে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পৃক্ততা তৈরির বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তাঁদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা ও শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তির সুযোগ, গবেষণা, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক জোরদারের মতো বিষয়গুলো তাঁর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছিল। গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁদের দাবি শুধু ৫৬ দিনের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নয়। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে তৈরি হওয়া যোগাযোগ, আস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বিবেচনা করেই তাঁরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।

আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিচয়ের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের বক্তব্য, এটি তাঁদের শিক্ষাবিষয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক দাবি আদায়ের আন্দোলন।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।