চট্টগ্রাম নগরের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জামাল। কয়েক বছর আগে বায়েজিদ এলাকার একটি স্টিল মিলে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই পা হারান তিনি। এরপর থেকেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছিল তাঁর। সংসারের খরচ চালানোসহ স্বাভাবিক জীবনযাপনেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল জামালকে।
দুর্ঘটনার পর জীবিকা নির্বাহের পথও অনেকটা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিয়মিত কোনো কাজ করতে না পারায় পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটানোর পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে সাইফুল ইসলাম সাইফ ফাউন্ডেশন।
রবিবার বিকেলে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মোহাম্মদ জামালকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রিকশাটি তুলে দেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম সাইফ।
রিকশা পেয়ে মোহাম্মদ জামাল বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই জীবিকা নির্বাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন তিনি। দুই পা হারানোর পর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন দুঃসময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা পেয়ে তিনি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। এ সহায়তার জন্য সাইফুল ইসলাম সাইফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম জানান, 'সমাজের পিছিয়ে পড়া, অসহায়, দরিদ্র ও কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ জামালকে ব্যাটারিচালিত রিকশা দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি এটি ব্যবহার করে আয়-রোজগারের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারেন।'
এ সময় স্থানীয়রা বলেন, শারীরিকভাবে অসচ্ছল ও কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের জন্য এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দান বা সাময়িক সহযোগিতার পাশাপাশি কাউকে আয়ের একটি স্থায়ী সুযোগ করে দেওয়া হলে তিনি আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন। সমাজে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি এবং অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসবে। এতে অসহায় ও কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার হবে।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।