দক্ষিণ পূর্ব

দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি পেতে রাসূলের (সা.) আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৭ দুপুর
পঠিত : ১৫
দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি পেতে রাসূলের (সা.) আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই

ছবি

দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি পেতে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকার কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আওলাদে রাসূল (সা.) ও আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল-মাদানী।

পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটি, আকবরশাহ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের অধ্যাপক ড. বি. এম. মফিজুর রহমান আল-আজহারী।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড. বি. এম. মফিজুর রহমান আল-আজহারী বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা ফরজ। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে জান-মাল কোরবানি দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এ পথে নানা পরীক্ষা ও প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে। তবে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। পরীক্ষার মধ্য দিয়েই জান্নাত লাভের পথ সুগম হতে পারে। তাই দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় হতাশ না হয়ে দৃঢ়তা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পতেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাহমুদুল হাসান বলেন, মানুষের হৃদয়ে আখেরাতের জবাবদিহি এবং জাহান্নামের শাস্তির ভয় জাগ্রত করতে হবে। জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচতে প্রত্যেককে নিজের জীবন সংশোধন করতে হবে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কেয়ামতের মাঠে নেতা ও কর্মীরা পরস্পরকে দোষারোপ করবে। কিন্তু সেদিন কেউ কারও দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। তাই দুনিয়ার জীবনে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং আখেরাতের প্রস্তুতি নিতে হবে।

অপর বিশেষ অতিথি কাট্টলী জাকেরুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মুফতি আবু হানিফা নোমান বলেন, মুসলমানরা আজ বিশ্বব্যাপী নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তিনি মুসলমানদের পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা থেকে দূরে সরে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি মুসলিম উম্মাহকে কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ, ইসলামী মূল্যবোধ ধারণ এবং ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের লেকচারার মাওলানা মো. ফজলে এলাহী ত্বহা, পাহাড়তলী টেক্সটাইল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লুতফুর রহমান, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা শাহজালাল, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন এবং ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. ইউসুফ চৌধুরী।

মাহফিলের আগে ‘মদিনার ফুল’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে নাতে রাসূল পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাফেজ মাওলানা লোকমান হাকিম। সবশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।