মো:আজগর আলী
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজারে মাছ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট শেড থাকলেও সড়কের ওপর বসছে মাছের বাজার।
পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য রেখে দখল করা হচ্ছে ফুটপাত ও সড়কের অংশ। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে তৈরি হচ্ছে ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য ও মাছ বিক্রির সামগ্রী রাখায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে পুরোনো সেতু থেকে মসজিদ পর্যন্ত সড়কের পাশে মাছের ঝুড়ি, ডালা, বাঁশের খাঁচা ও বরফের বাক্স রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় ব্যস্ত সময়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শুধু মাছ বিক্রেতারাই নন, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সড়ক ও ফুটপাতের অংশ দখল করে পণ্য রাখছে। এতে পথচারীদের চলাচলের জায়গা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা হাসান কবির বলেন, ‘নাজিরহাট নতুন সেতু থেকে আদর্শ স্কুল পর্যন্ত সড়কটি বাজারের বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্নভাবে সড়কটিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো সেতু থেকে পাবলিক টয়লেট পর্যন্ত অংশ প্রায় পুরোপুরি দখল করে রাখা হয়েছে। এটি দখলমুক্ত করা গেলে বাজারের পরিবেশ সুন্দর হবে।’
মাছ কিনতে আসা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘বাজারে চলাচলের জায়গা অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। কোনো কোনো সময় একজন পুরুষকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য থেমে থাকতে হয়। নারী ক্রেতা হিসেবে এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’
স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রীও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয় ও কলেজ ছুটির সময়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। সরু সড়কে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের পাশাপাশি রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় রাস্তা চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
নাজিরহাট বাজার, পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কাঁচাবাজার, ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংকে বাজারের অন্যতম সমস্যা হিসেবে স্বীকার করেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি মোটেই কাম্য নয়। যারা রাস্তায় বাজার বসিয়ে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরএইচ/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।