ডেস্ক রিপোর্ট
ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রজনন ক্ষমতাকে (Fertility) প্রভাবিত করতে পারে। ভারতের জনপ্রিয় নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি কনসালট্যান্ট অশ্বতী নায়ার (Aswati Nair) বলেন, “গর্ভধারণের ক্ষেত্রে বিলম্ব এবং বাধা সৃষ্টি করার সময় থেকেই ধূমপানের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। সাধারণত, যে সমস্ত দম্পতি প্রতি ২-৩ দিন অন্তর সুরক্ষিত যৌন সঙ্গম করেন, সেক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। তবে, ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সেই সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। এই ধরণের পরিস্থিতিতে, দম্পতিদের ধূমপান একেবারে বন্ধ করাই হল একমাত্র বিকল্প।"
তিনি আরও যোগ করেন, যে মহিলারা ধূমপান করেন তাঁদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি যাঁরা ধূমপান করেন না তাঁদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। তাঁর কথায়, “এটি IVF-এর মতো গর্ভধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে চিকিৎসার সাফল্যের হারকে প্রভাবিত করে।”
চিকিৎসক নায়ার ধূমপান এবং গর্ভধারণের ক্ষমতা হ্রাস সম্পর্কে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।ধূমপান বন্ধ করলে কি মহিলাদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনার উন্নতি হবে? এই প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক নায়ার বলেন,'হ্যাঁ, এটি অবশ্যই একজন পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই সহায়ক। সর্বোত্তম বিষয়টি হল, ইতিমধ্যেই যে মহিলারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন তাঁদের, কোনও দিনও ধূমপান করেননি এমন মহিলাদের তুলনায় গর্ভবতী হতে বেশি সময় লাগে না।'
নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ ধূমপানও কি গর্ভধারণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,'হ্যাঁ, প্যাসিভ ধূমপান গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনাগুলিকে অত্যন্ত প্রভাবিত করে। এমনকি যদি কেউ নিজে ধূমপান না করেন, সেক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গীর সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়া তার গর্ভবতী হওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।'
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে তবে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার আদর্শ সময় কোনটি? জবাবে তিনি বলেন, আদর্শগতভাবে, কোনও দম্পতি যখন পরিবার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন তাঁদের পুরোপুরি ধূমপান ত্যাগ করা উচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ধূমপান ত্যাগ করার পরিবর্তে অনেকেই ধূমপানের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে কম পরিমাণে ধূমপান করাও গর্ভধারণে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। দিনে ১-৫টি সিগারেট গর্ভাবস্থার জন্য আরও বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। গর্ভাবস্থার পরে ধূমপান বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি, বিকাশে বাধা এবং মায়ের উচ্চ রক্তচাপের কারণও হতে পারে। কম ওজনের বাচ্চা জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। গর্ভবতী হওয়ার আগে ধূমপান ছেড়ে দিলে এই সমস্ত ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পাবে।
বন্ধ্যাত্ব মোকাবিলায় ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলি কী জানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন,বন্ধ্যাত্ব মোকাবিলায় ধূমপান ত্যাগ করা বেশ কয়েকজন দম্পতির জন্য অবিশ্বাস্য ভাবে চাপযুক্ত হতে পারে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে মানসিক চাপ মুক্তির জন্য বেশিরভাগ মানুষ ধূমপান করে থাকেন। ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার জন্য সহায়তা প্রদানে চিকিৎসকরা মূল ভূমিকা পালন করেন। বেশ কয়েকটি ওষুধ রয়েছে যা মানুষকে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করার জন্য কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।