দক্ষিণ পূর্ব

নির্বাচন হলেও চাঁদাবাজি-দুর্নীতি-সন্ত্রাস বেড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৫৬ বিকাল
পঠিত : ৩১
নির্বাচন হলেও চাঁদাবাজি-দুর্নীতি-সন্ত্রাস বেড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট-সাধনা করে বৈপ্লবিক পরিস্থিতি থেকে একটি গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির দিকে যাত্রা করেছি। আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশে সংস্কার হবে। বলা হয়েছিল, আগে নির্বাচন হলে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচন হয়ে গেলেও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বেড়েই চলছে।’

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের এ অংশের সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যও মিলে যায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘মানুষের পকেট কেটে নেওয়া চাঁদাবাজির রাজনীতি বাংলাদেশকে নষ্ট করে দিয়েছে। এই নষ্ট রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, পকেট কাটা, বালি-মাটি উত্তোলন ও জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের টাকা ব্যবহার করে কেউ পেশিশক্তি দেখানোর চেষ্টা করলে তা জনগণ মেনে নেবে না। টাকার শক্তি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে গণতান্ত্রিকভাবে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লন্ডনের শীর্ষ দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতারও সমালোচনা করেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘শতবার বেয়াদব হতে রাজি আছি, কিন্তু একবারের জন্যও চাঁদাবাজ হতে রাজি নই।’ তিনি এনসিপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় তিন হাজার মানুষ এনসিপিতে যোগ দেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। যোগদানকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন বলে দলটির দাবি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সভাপতি লায়ন এম মুন্না চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সিফাত হোসেনের সঞ্চালনায় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইরুল হাসান আরিফ, যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, এনসিপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মীর মোহাম্মদ শোয়াইব এবং কেন্দ্রীয় সদস্য জাওয়াদুল করিম।

এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাতকানিয়ার এই যোগদানের মধ্য দিয়ে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে। যোগদানকারীদের মধ্যে এলডিপি, আপ বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীরাও রয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।