রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, নিহত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে আসামবস্তি এলাকার সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবুল ইসলাম (২৫) স্থানীয় অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ও গৃহবধূ রাখাই ইসলামের বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিকিৎসা করানো হয় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়। কয়েক মাস আগে সর্বশেষ তাকে রিহ্যাবে পাঠাতে তাঁর বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেন। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তিনি আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।
স্বজন ও স্থানীয়দের মতে, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের আচরণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া-বিবাদ হতো। থানা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদক সেবনের পাশাপাশি তিনি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন। এর আগে তিনি একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি পুনরায় মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁর মা ধারালো দা দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম আহত সাকিবুলকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম অবস্থায় সাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসাকালেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তসঞ্চালন কমে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
আরএইচ / দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।