দক্ষিণ পূর্ব

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সহায়তায় গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যা’: জাতিসংঘ স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউরের প্রতিবেদন

shakhawat sohan
প্রকাশ : ২ জুলাই ২০২৫
পঠিত :
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সহায়তায় গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যা’: জাতিসংঘ স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউরের প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিলিস্তিনি অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও গাজায় চলমান গণহত্যায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ফ্রান্সেসকা আলবানিজ একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। আল জাজিরায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি দেখিয়েছে কীভাবে বড় বড় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, খনিশিল্প ও পর্যটন খাতের কোম্পানিগুলো ইসরাইলকে অবৈধভাবে সহায়তা দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অংশ নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এখন অস্ত্র নির্মাতা ও বিগ-টেক কোম্পানিগুলোর জন্য একটি ‘পরীক্ষাগারে’ পরিণত হয়েছে। জবাবদিহিতার অনুপস্থিতিতে এসব কোম্পানি মুনাফা অর্জন করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

প্রতিবেদনে ৪৮টি কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়, যারা সরাসরি এই যুদ্ধে সহায়তাকারী। এর মধ্যে রয়েছে:

প্রযুক্তি খাত: মাইক্রোসফট, গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, আইবিএম, প্যালান্টির টেকনোলজি। তারা গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর জন্য স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণ প্রযুক্তি (যেমন: ল্যাভেন্ডার, গসপেল, হোয়ারস ড্যাডজ) সরবরাহ করেছে।

অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা: লকহিড মার্টিন (এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান), ইতালির লিওনার্দো এসপিএ, জাপানের রোবটিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফ্যানইউসি, ইসরাইলের এলবিট সিস্টেমস।

যন্ত্রপাতি: ক্যাটারপিলার, সুইডেনের ভলভো, দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই, র‌্যাডা ইলেকট্রিক ইন্ডাস্ট্রিজ।

পর্যটন ও আবাসন: এয়ারবিএনবি ও বুকিং ডট কম— যারা অবৈধ বসতিতে ঘরবাড়ি ও হোটেল ভাড়া দিয়ে থাকে।

জ্বালানি ও কৃষি: সুইজারল্যান্ডের গ্লেনকোর, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রুমন্ড (ইসরাইলকে কয়লা সরবরাহ), চীনের ব্রাইট ডেইলি অ্যান্ড ফুড ও মেক্সিকোর নেতাফিম।

বিনিয়োগ ও অর্থায়ন: ব্লাকরক, ভ্যানগার্ড, ক্যাটারপিলার, শেভরন, বারক্লেস, ফ্রান্সের বিএনপি পারিবাস— যারা ইসরাইলি বন্ডে বিনিয়োগ করে দখলদারিত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করছে।


আলবানিজ বলেন, এসব কোম্পানির আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়া ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হতে পারে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের অবস্থান অবৈধ এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে দখলদারিত্ব শেষ করতে হবে। এ অবস্থায় যেকোনো কোম্পানি বা রাষ্ট্রের পক্ষে ইসরাইলকে সহায়তা করা আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল হতে পারে।

এসএস

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।