দক্ষিণ পূর্ব

বাঁশখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীকে মারধর: আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ইমাম উদ্দিন
প্রকাশ : ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:২২ দুপুর
পঠিত : ৪৩
বাঁশখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীকে মারধর: আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বাঁশখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী মোহাম্মদ মোবারককে মারধর করে বাম কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা জাকের উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জাকের উল্লাহসহ আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।


জাকের উল্লাহ ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মাতব্বরপাড়ার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মোবারক ৫নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল্লাহপাড়ার শিব্বির আহমদের ছেলে।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মোবারক বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলার বিষয়টি জানাজানি হয় বৃহস্পতিবার।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাকের উল্লাহ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। গত ২৫ আগস্ট মোবারকের ফেসবুক আইডিতে জাকের উল্লাহর একটি ছবি পোস্ট করা হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। প্রতিদিনের মতো ২৬ আগস্ট সকালে ছনুয়া মনুমিয়াজী বাজারে অবস্থিত ‘জয়নাল ফার্নিচার মার্ট’ নামের দোকানে কাজ করতে যান মোবারক। সকাল ১০টার দিকে জাকের উল্লাহসহ ৪ থেকে ৫ জন ওই দোকানে প্রবেশ করে তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে যান। ফেসবুকে কেন ছবি পোস্ট করা হয়েছে—এমন প্রশ্ন করে তারা মোবারককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে বাম কানে জোরে ঘুষি মারা হলে কান ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে তাকে মাটিতে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মোবারকের অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ফেলে অভিযুক্তরা চলে যান। পরে ফার্নিচার দোকানের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম শহরে পাঠানো হয়।


চট্টগ্রামে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, মোবারকের বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে এবং রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ওষুধে চিকিৎসা করে কানের সমস্যা না সারলে অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে বলেও চিকিৎসক জানিয়েছেন।


ভুক্তভোগী স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী মোহাম্মদ মোবারক বলেন, ‘আমি এখন বাম কানে শুনতে পাই না এবং শোঁ শোঁ শব্দ হয়। আমাকে এভাবে মারধর করার পরও আওয়ামী লীগ নেতা জাকের উল্লাহ ক্ষান্ত হননি। তিনি এখনও আমাকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘আ. লীগের আমলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা জাকের উল্লাহ ৫ আগস্টের পর বাঁশখালী বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব রেজাউল হক চৌধুরীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’


এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাঁশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুভাষ পাল বলেন, ‘মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।’


ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।