নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোহাম্মদ নগর এলাকায় এক কৃষক দল নেতাকে ‘ভাড়াটিয়া’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে অপমান ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা এরশাদ হোসেন ও ডন বাবুলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়কার বিতর্কিত কাউন্সিলর মোবারক আলীর অনুসারী ছাত্রলীগ ক্যাডার মোবারক হোসেনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বায়েজিদ বোস্তামী থানার সামনে মানবন্ধন করেছে মোহাম্মদ নগরের সর্বস্তরের বাসিন্দারা।
জানা গেছে, মোহাম্মদ নগরের একটি ভাড়া ঘর দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাউন্সিলর মোবারক আলীর অনুসারী ও ছাত্রলীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাবার সঙ্গে অবিচার করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং ঘরটি ভাড়া দেন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুবদল নেতা এরশাদ হোসেন ও ডন বাবুল ওই বিতর্কিত ছাত্রলীগ ক্যাডারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে বুধবার মোবারকের পক্ষে ওই ঘরটি দখলের চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে বাধা দেন। খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার সমাধানে পরে বায়েজিদ থানায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমান আলীকে ইঙ্গিত করে যুবদল নেতা এরশাদ হোসেন ‘ভাড়াটিয়া’ বলে সম্বোধন করে বলেন, 'তুই ভাড়াটিয়া, চুপ থাক। এখানে আমরা সব ডিসিশন দেব।' আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এরশাদকে কক্ষ থেকে বের করে দেন বায়েজিদ থানার ওসি। তিনি বলেন, 'তুমি তাকে এ শব্দ ব্যবহার করতে পারো না। এটা অনুচিত হয়েছে। ভাড়াটিয়াও মানুষ, সেও নাগরিক।'
ভুক্তভোগী ইমান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৭ বছরের রাজপথের সংগ্রামে যাদের পাশে পাওয়া যায়নি, তারাই এখন বড় বড় কথা বলছে। দুর্ভাগ্যক্রমে নিজস্ব বাড়ি বিক্রি করে দিতে হওয়ায় আমি এখন ভাড়া থাকি। কিন্তু যুবদল নেতা এরশাদ আমাকে তাচ্ছিল্য করে অপমান করেছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার মোহাম্মদ নগরের নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভাড়াটিয়ারা নগরেরই স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। সংবিধানে তাদের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের কথা বলা আছে। কিন্তু কিছু নেতা নিজেদের ‘জমিদার’ মনে করে চাঁদাবাজি ও ভাড়াটিয়াদের অপমান করছেন। এমনকি তারা আওয়ামী লীগের সময়ের ভাড়া ঘর, দোকান, গ্যারেজ দখল করে লুটেপুটে খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ভাড়াটিয়া অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ বলেন, কোনো ভাড়াটিয়াকে হয়রানি করা হলে আমরা তার পাশে দাঁড়াব। ভাড়াটিয়ারা ভাড়া থাকেন বলেই বাড়িওয়ালারা আয় করেন। তাদের তাচ্ছিল্য করার সুযোগ নেই। এটি নিঃসন্দেহে অন্যায়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।