দক্ষিণ পূর্ব

বিশ্বে প্রতি ৯ মিনিটে জলাতঙ্কে একজনের মৃত্যু

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৫ দুপুর
পঠিত : ৩০
বিশ্বে প্রতি ৯ মিনিটে জলাতঙ্কে একজনের মৃত্যু

ছবি

বিশ্বে প্রতি ৯ মিনিটে জলাতঙ্কে একজন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ শিশু। তবে সচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর টিকাদান এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে প্রাণঘাতী এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য উঠে আসে।

এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘একসাথে, আরও শক্তিশালী-জলাতঙ্ক মুক্ত বিশ্ব গড়ি’।

দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে দুপুরে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। এতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাইভেট ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম ডেইরি খামারি নেতারা অংশ নেন। র‌্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ভেটেরিনারি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান।

সভায় বক্তব্য দেন সিভাসুর পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুদ্দিন, জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ডা. সাহাবুদ্দিন, ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মালিক ওমরসহ সংশ্লিষ্টরা। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন লোহাগাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ।

বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী হলেও সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। আক্রান্ত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল ও বেজির লালার মাধ্যমে এ রোগের ভাইরাস ছড়াতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীদের যথাযথভাবে টিকাদানের পাশাপাশি কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে জলাতঙ্কে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সভায় জানানো হয়, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হন। তাদের প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু। ভারত, চীন ও বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

এ কারণে শুধু মানুষের চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রাণীদের টিকাদান ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা।

বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর মধ্যে কুকুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর টিকাদান, আক্রান্ত প্রাণী শনাক্তকরণ, প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।