কুমিল্লার নাগাইশ দরবার শরীফের পীর সাহেব আলোচিত ইসলামীক স্কলার অধ্যক্ষ মোশতাক ফয়েজী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কুরআনের আলোকে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর জীবনাদর্শের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটেছে এবং পশুবৃত্তি দমন হয়েছে। কুরআনুল কারীম ছিল সেই মহান আদর্শের মূল ভিত্তি। তিল তিল করে মহানবী (সা.) কুরআনের আলোকে নিজেকে তৈরি করেছিলেন। তিনি এমন একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে মানুষের মনুষ্যত্ব বিকশিত হয়েছিল। তাঁর জীবন ছিল কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-তে সীরাতুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইআইইউসির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। তিনি বলেন, কুরআনকে শুধু বুকে জড়িয়ে ধরে রাখলে হবে না, কুরআনকে বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। কুরআনকে বুঝতে হলে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা নিজেদের জীবনে অনুসরণ করতে হবে। সীরাতুন্নবী (সা.) উদযাপনের উদ্দেশ্য শুধু আলোচনা বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয় বরং মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর ও সীরাতুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভূঁইয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন ফ্যাকাল্টি অব শরীয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের ডিন প্রফেসর ড. মো. রশীদ জাহেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ এবং বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক চৌধুরী গোলাম মাওলা।
সীরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ মোশতাক ফয়েজী তরুণদের উদ্দেশে আরও বলেন, আমি বিশ্ব দেখি আজকে তোমরা যারা উপস্থিত হয়েছো, তোমাদের চোখে। আমি স্বপ্ন দেখি তোমাদের হৃদয়ে। আজকে আমার বুকভরা আশা। তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠলে বিশ্বের অপশক্তিকে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মুসলমানদের আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই। নিজেদের দায়িত্ব ও পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হয়ে মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে হবে। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরাই থাকবো, ইনশাআল্লাহ। অনুষ্ঠানের শেষে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।-বিজ্ঞপ্তি
জেএফআই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।