মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে মেনে চলার পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন, সন্তানদের শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরীর উত্তর পতেঙ্গার মুসলিমাবাদ জেলেপাড়ায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ। এর উৎপাদন ও প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার, জেলে, ব্যবসায়ী, ভোক্তাসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি জানান, আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে জেলেদের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলো আর্থিক ও সামাজিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। বিষয়টি সরকার অবগত। সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলে পরিবারের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, সেখানে জেলেদের সন্তানদের নিয়মিত উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মৎস্য আহরণেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জেলেদের আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ নৌযান পরিচালনা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য আহরণে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। জেলেদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জেলেদের জন্য ভিজিএফের চালসহ সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলেদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, দক্ষতা অর্জন ও শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
জেলা প্রশাসক জেলেদের পারস্পরিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ ও মাদকের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের বিষয়গুলো ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরারও আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, নৌ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলে সম্প্রদায়ের সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উদ্যোগে জেলেপাড়ায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ জেলে পরিবারের মধ্যে শুকনো ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
আর / দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।