বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আজ
ডেস্ক রিপোর্ট
‘বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস’ আজ। ১৯৮২ সাল থেকে প্রতি বছর যক্ষ্মা রোগের ক্ষতিকর দিক বিশেষ করে স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই রোগটি নির্মূলে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা হলে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। সচেতন হয়ে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা থেকে নির্মূল হওয়া সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে যক্ষ্মার প্রকোপ। আক্রান্ত হচ্ছে লাখো মানুষ। সময় মতো চিকিৎসা না করার ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। অথচ শুরুতেই এ রোগ ধরা পড়লে এবং নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এ রোগ ভালো হয়। এ কারণে মানুষের মধ্যে যক্ষ্মা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়।
জানা যায়, ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ ডা. রবার্ট কক যক্ষ্মা রোগের জীবাণু ‘মাইক্রোব্যাটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস’ আবিষ্কার করেন। জীবাণু আবিষ্কারের শত বছর পর ১৯৮২ সাল থেকে দিনটিকে স্মরণীয় করা ও যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হচ্ছে।
যক্ষ্মা বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যতম মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের যে ৩০টি দেশে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক, তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। ১৯৯৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষ্মাকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার ও কিছু বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশে যক্ষ্মার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের যক্ষ্মা বিষয়ক সভায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে যে সুপারিশসমূহ ও সাহসী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর। এমনকি সরকার দেশের সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ।
যক্ষ্মা রোগ কী?
যক্ষ্মা হলো ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ। এই রোগটি বেশির ভাগ ফুসফুসকে প্রভাবিত করে। এই রোগের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রক্ত প্রবাহের সঙ্গে ফুসফুসসহ মস্তিষ্কের কিছু অংশ, গর্ভাশয় ও শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। হাড়, হাড়ের সংযোগ, লিম্ফ গ্ল্যান্ড, অন্ত্র, মূত্র ও প্রজনন তন্ত্র, ত্বক ইত্যাদি স্থানে ক্ষয়রোগ হতে পারে। শুরু দিকে সঠিক চিকিৎসা না-করালে যক্ষ্মার ফলে প্রাণহানিও ঘটতে পারে।
যক্ষ্মা যেভাবে ছড়াতে পারে
টিবি সংক্রামক যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এই রোগের ব্যাকটেরিয়া রোগীর কাশি, হাঁচি, থুতু ও বড় মুখ খুলে কথা বলার সময় মুখ ও নাক থেকে নির্গত বায়ুর মাধ্যমে অন্য লোকের মধ্যে ছড়ায়। আবার সংক্রমিত পানি ও খাবার থেকেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
যক্ষা রোগের কারণ
১. ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২. ক্যানসারও যক্ষ্মার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
৩. শরীরের কোনো অংশ ট্রান্সপ্লান্টের পর যেসব ওষুধ খাওয়া হয়, তার কারণেও যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এই রোগের অন্যতম কারণ।
৫. যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এই রোগ হতে পারে।
৬. অধিক ধূমপান ও মাদকাসক্তিও যক্ষ্মার একটি কারণ।
যক্ষা রোগের লক্ষণ
১. কাশি, বিশেষত কফ যুক্ত কাশি। যে কাশিতে রক্তও উঠে আসতে পারে।
২. যক্ষ্মা আক্রান্ত হলে ক্ষুদা কম পায়।
৩. ক্লান্তি ও রাতের দিকে মাঝেমধ্যে ঘাম হয়।
৪. হাল্কা জ্বর থাকে।
৫. জোরে শ্বাস নিলে বুকে ব্যথা হয়।
যক্ষ্মার ঘরোয়া উপায়
কয়েকটি বিষয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখলে এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে পড়ে। তার জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। ডাক্তারের পরামর্শে যথাসময়ে চিকিৎসা না করালে, এই রোগ বৃদ্ধি পায়। তবে এই রোগের শুরুতেই কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে তা সহজেই নিরাময় সম্ভব।
১. রোজ সকালে দু-তিন কোয়া রসুন চিবিয়ে খান। এমন করলে যক্ষ্মার লক্ষণ কমে।
২. মধু ও মাখন শরীরের ক্ষয় আটকায়। ১০০ গ্রাম মাখনে ২৫ গ্রাম মধু মিশিয়ে রোজ খান।
৩. খাবার খাওয়ার পর লবঙ্গের গুঁড়োয় মধু মিশিয়ে খেলে সুফল পেতে পারেন।
৪. ২৫০ গ্রাম দুধে অশ্বত্থ পাতা দিয়ে ফোটান। সকাল-সন্ধ্যায় সেই দুধ পান করুন।
৫. রসুনের রসের সঙ্গে আধ চামচ মধু মিশিয়ে খান। রসুনের রস ফুসফুসকে মজবুত করে।
৫. যক্ষ্মা রোগীরা প্রতিদিন ১০০ বা ২০০ গ্রাম আঙুর খান।
৬. বেশি বেশি কলা খান। কলা যক্ষ্মা রোগীদের রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।