গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিকেল ৫টার দিকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ ) নামে একটি স্নায়বিক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার অবনতির কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। তাই সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অটোনমিক নিউরোপ্যাথি এমন একটি স্নায়বিক রোগ, যেখানে শরীরের **অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম (Autonomic Nervous System-ANS) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই স্নায়ুতন্ত্র মানুষের অজান্তেই শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ—যেমন হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস, হজম, ঘাম, মূত্রথলি ও অন্ত্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এ স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে এসব স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এ রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এছাড়া অটোইমিউন রোগ, বিভিন্ন সংক্রমণ, স্নায়ুতন্ত্রের বিরল কিছু রোগ, ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বংশগত কারণেও অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হতে পারে।
রোগটির প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি, রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, খাবার হজমে দেরি, বমিভাব, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, প্রস্রাব করতে সমস্যা বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা এবং ঘাম কম বা অতিরিক্ত হওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, অটোনমিক নিউরোপ্যাথির চিকিৎসায় প্রথমে রোগের মূল কারণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। যেমন, ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হজমের সমস্যা, মূত্রথলির জটিলতা ও অন্যান্য সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, তাত্ত্বিকভাবে যে কারও এ রোগ হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এ রোগ দেখা দিতে পারে। যদিও রোগটি সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে উপসর্গ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির বারবার দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি, দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা বা প্রস্রাবজনিত জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।