দক্ষিণ পূর্ব

লগি-বৈঠার ফ্যাসিবাদী রাজনীতি বাংলার জমিনে চিরতরে বন্ধ হবে: শাহজাহান চৌধুরী এমপি

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৩ দুপুর
পঠিত : ৩৮
লগি-বৈঠার ফ্যাসিবাদী রাজনীতি বাংলার জমিনে চিরতরে বন্ধ হবে: শাহজাহান চৌধুরী এমপি

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বুধবার এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। যারা মানুষ হত্যার নির্দেশ দিয়েছে, বাংলার জমিনে তাদের বিচার হবেই, ইনশাআল্লাহ। লগি-বৈঠার ফ্যাসিবাদী রাজনীতি এ দেশে চিরতরে বন্ধ হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া ও অ্যাডভোকেট আবু নাছের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, নুরুল হক ও আ ক ম ফরিদুল আলম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ডি এম আসহাব উদ্দীন ও সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দীন, চন্দনাইশ উপজেলা আমির মাওলানা কুতুব উদ্দিন, উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক থানার আমির মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সাতকানিয়া পৌরসভা আমির অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দীন আজাদ, সাবেক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইব্রাহিম চৌধুরী ও তারেক হোসাইনসহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের নেতারা।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের চরিত্র হচ্ছে গণতন্ত্রকে হত্যা করা। দলটি ক্ষমতায় থাকলেও বিপদ, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বিপদ। ক্ষমতার বাইরে থেকে লগি-বৈঠার রাজনীতির মাধ্যমে মানুষ হত্যা করেছে, আর ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা ও দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে দেশকে পঙ্গু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বাবা ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন। একইভাবে শেখ হাসিনাও লগি-বৈঠার নৃশংসতার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং মিথ্যা মামলায় দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের ফাঁসি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জাতি এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “আপনারা আমাদের দীর্ঘদিনের চলার সাথী। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের অংশীজন হিসেবে দেশ গঠনে সংস্কারের কথা দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় গিয়ে গণভোটের গণরায়কে অগ্রাহ্য করে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন। এর জন্য আপনাদেরও সেই পরিণতি বরণ করতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগকে ‘খুনি ও ফ্যাসিস্টদের আড্ডাখানা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দলটি সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে জনগণের রায় নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হত্যার ইতিহাস। এ দল বাংলাদেশে থাকলে জনগণ গণতন্ত্রের মুখ দেখতে পাবে না।

তিনি বলেন, “আমাদের আমিরে জামায়াত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ভালো মানুষ, তারা তাদের পছন্দের ঠিকানা খুঁজে নেবেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ফিরে আসবে—এমন কল্পনা কেউ করবেন না, স্বপ্ন দেখবেন না।”

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে ছয়জন জামায়াতকর্মীকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল। এমনকি মৃত্যুর পর লাশের ওপর নৃত্য করে বর্বরতা চালানো হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষায়, এ ঘটনা ছিল নৃশংসতা ও সন্ত্রাসের বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে, পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারাসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।