দক্ষিণ পূর্ব

শতবর্ষের স্মৃতি ধরে রাখতে ডিসি হিলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫২ বিকাল
সর্বশেষ আপডেট : ৬ দিন আগে
পঠিত : ৩৫
শতবর্ষের স্মৃতি ধরে রাখতে ডিসি হিলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’

ছবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়তে নজরুলকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না, তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধও ধারণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তমঞ্চটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

dokkhinpurbo-com.81067700d9102ff88ac5755561ce951f.webp?v=1789069972

জেলা প্রশাসক জানান, ১৯২৬ সালে কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে ডিসি হিলে অবস্থান করেছিলেন। কবির সেই অবস্থানের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নজরুলচর্চার সুযোগ বাড়াতে নতুন করে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নজরুল এমন একজন কবি, যিনি মানবতাকে আরও বেশি প্রসারিত করেছেন। আমাদের নজরুলকে জানতে হবে, আরও বেশি জানতে হবে।’

নজরুলের সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণের বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির কথা বলেছেন কবি। তিনি যেমন ইসলামী সংগীত রচনা করেছেন, তেমনি লিখেছেন শ্যামাসংগীত। তাঁর সৃষ্টিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান এবং সম্প্রীতির বার্তা রয়েছে।

dokkhinpurbo-com.34bfc72f345d3bf3d15b631a1de4c0f3.webp?v=1789069987

জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুলের সাহিত্য মানুষকে অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামেও তাঁর লেখনী মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার ক্ষেত্রে নজরুলের দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

নজরুলের আপসহীন মানসিকতার প্রসঙ্গ তুলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কবি নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেননি। তাঁর ভাষায়, ‘কোনো কিছুর কাছে তাঁর বিবেক কখনো পরাজিত হয়নি। পরাজিত বিবেক দিয়ে কোনো কিছু অর্জন করা যায়, কিন্তু সেই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’

ডিসি হিলের সঙ্গে নজরুলের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯২৬ থেকে ২০২৬—ঠিক ১০০ বছর পর আমরা সেই স্মৃতিকে অম্লান করে ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে ডিসি হিল একটি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী স্থান। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এখানকার বিভিন্ন স্থাপনা জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কারের পাশাপাশি পুরো এলাকাকে নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো মঞ্চকে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারও সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি তরুণদের মানবিক গুণাবলি অর্জন করাও জরুরি। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সেই শিক্ষা দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম নজরুলকে ধারণ করবে, নজরুলকে লালন করবে। নজরুল যেভাবে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চেতনায় তরুণ সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।’

নির্মাণকাজ শেষ হলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চে’ কবির সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। এতে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা চর্চার সুযোগ পাবেন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যেও নজরুল সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হবে।

জেলা প্রশাসনের আশা, নজরুলের ডিসি হিলে অবস্থানের শতবর্ষের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন এই মুক্তমঞ্চ চট্টগ্রামে নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।