আজ শুভ মহালয়া। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় মুখরিত হয়ে উঠেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হৃদয়। চণ্ডীপাঠ, তর্পণ ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা। মহালয়াকে ঘিরে মন্দিরে মন্দিরে চলছে দেবীকে আবাহনের আয়োজন। একই সঙ্গে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে শেষ পর্যায়ে।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজা উদযাপিত হলেও এবার তিথির বিশেষ বিন্যাসে উৎসব চলবে ছয় দিন। মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় পূজার দিনসংখ্যা বেড়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীতে পূজা হবে ২৫৮টি মণ্ডপে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি। রাস্তার ওপর পূজা আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় এবার রাজধানীতে মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমেছে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আগমনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিন ভোরে বিভিন্ন মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবীর আবাহন করা হয়। একই সঙ্গে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপূজার অপেক্ষার প্রহর।
মহালয়ায় অনেকেই গঙ্গাসহ বিভিন্ন নদীর তীরে কিংবা জলাশয়ে পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ করেন। তাঁদের আত্মার শান্তি ও সদ্গতি কামনায় পালন করা হয় ধর্মীয় আচার। মহালয়ার মধ্য দিয়ে ভক্তদের মনে দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়।
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বৈঠক হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছে।
মহালয়ার অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দুর্গাপূজার শেষ দিন পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, উৎসবের আনন্দ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় এখন দেশের হিন্দু সম্প্রদায়।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।