দক্ষিণ পূর্ব

সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে:মেয়র শাহাদাত হোসেন

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২০ দুপুর
পঠিত : ২৫
সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে:মেয়র শাহাদাত হোসেন

ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা জরুরি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি মোড়ে চকবাজার ও বৃহত্তর বাকলিয়া থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা লক্ষ্মণ সেনের মতো পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এতিম করে দিয়েছেন। এখন তিনি ফিরে আসবেন—এমন বক্তব্য দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাকে আসামি হিসেবেই দেশে ফিরতে হবে।

তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অংশ হিসেবে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। সন্ত্রাস, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে দলের বদনাম হয়। দলে নতুন করে যারা হাইব্রিড হিসেবে আসছেন, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো অপকর্ম করতে না পারেন।

তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, তারা আবার ফিরে আসতে চাইছেন। কীসের আশায় তারা ফিরতে চাইছেন, আমরা জানি না। তবে তারা যে অপরাধ, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন এবং মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন, তার হিসাব এ দেশের মানুষ নেবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক আর বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের কথা বলছে। চাঁদাবাজি, ব্যাংক দখলসহ যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে বিএনপি সতর্ক রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে এবং মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সমাবেশ শেষে বাকলিয়া এক্সেস রোড থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে চন্দনপুরা, গনি বেকারি ও জামাল খান মোড় হয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।