নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে ভবন নির্মাণ করে হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনা করলেও সিডিএর জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন কর্ণফুলীর ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান। তার দাবি, জমি ও ভবনের বৈধ কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে তার কাছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকার আল মদিনা রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আব্দুল মান্নান বলেন, কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা মৌজার ১৪৭৫ ও ১৪৭৫/বিএস দাগে সাত শতক জমি ক্রয় করে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ভবনে ‘হোটেল রাফা’ ও ‘আল মদিনা রেস্তোরাঁ’ পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি ছয়তলা এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভবন নির্মাণের পর থেকেই জমি ও নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এমনকি ভবনটি সিডিএর জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বলেও প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সিডিএর লিজ নেওয়া জমির বিষয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, তার নিজস্ব জমির সামনের অংশে থাকা সিডিএর ৩ দশমিক ৭৭ কাঠা জমি ২০২৪ সালে নিয়ম অনুযায়ী লিজ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের শেষ দিকে সিডিএ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ওই জমি তাকে বুঝিয়ে দেয়। এ জমির বিপরীতে তিনি বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা রয়্যালটি এবং প্রযোজ্য ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ করেন বলে জানান।
তার দাবি, লিজ নেওয়া খালি জায়গায় একটি সিএনজি স্টেশন স্থাপনের চেষ্টা হলে সিডিএর জমি রক্ষার জন্য চলাচলের পথ রেখে সেখানে চার-পাঁচটি অস্থায়ী সেমিপাকা দোকান নির্মাণ করেন। এরপরই তার মূল ভবন ও রেস্তোরাঁকে জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানো শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সিডিএর মালিকানাধীন প্রায় ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকায় চার শতাধিক দোকান ও বহুতল ভবন রয়েছে। তার অভিযোগ, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ফি ছাড়াই এসব স্থাপনা ভোগদখল করছেন। অথচ নিয়ম মেনে রয়্যালটি পরিশোধ করে অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করায় তাকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
আব্দুল মান্নান বলেন, তার কাছে জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, দখলসংক্রান্ত নথি ও নির্মাণ অনুমোদনের কাগজপত্র রয়েছে। প্রশাসনের প্রতি তার আহ্বান, সরেজমিনে তদন্ত করে এসব নথিপত্র যাচাই করা হোক। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর /দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।