দক্ষিণ পূর্ব

১০০ টাকার নিচে মিলছে না বেগুন-টমেটো, মাছের বাজার আরও চড়া

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৪ দিন আগে
পঠিত : ৩২
১০০ টাকার নিচে মিলছে না বেগুন-টমেটো, মাছের বাজার আরও চড়া

কাজির দেউড়ি কাঁচা বাজার

চট্টগ্রামের বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পুরোপুরি কমেনি বাজারের চাপ। বেশিরভাগ সবজির দাম ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এলেও বেগুন ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে মাছের বাজারে স্বস্তির কোনো লক্ষণ নেই। অধিকাংশ মাছই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট ও কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে পেঁপে মিলছে সবচেয়ে কম দামে—প্রতি কেজি ৩০ টাকা। ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল ও ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। করলা ৭০, লাউ ও ধুন্দল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন ও টমেটোর ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। ভালো মানের এসব সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি।

ষোলশহর এলাকার ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, আগের তুলনায় কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারের খরচ কিছুটা সামলানো গেলেও বেগুন ও টমেটোর দাম বেশি থাকায় স্বস্তি পুরোপুরি আসেনি।

আরেক ক্রেতার ভাষ্য, পটল, ঢেঁড়শ, ঝিঙে ও পেঁপের দাম কমেছে। কিন্তু এক-দুই ধরনের সবজির দাম কমলেই বাজারের সামগ্রিক চাপ কমে না। বেগুন ও টমেটোর দামও কমানো দরকার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। তবে বেগুন ও টমেটোর সরবরাহ তুলনামূলক কম। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম কমানো যাচ্ছে না।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের বিক্রেতা নাদিম বলেন, কয়েক ধরনের সবজি এখন বেশি পরিমাণে আসছে। ফলে দামও কমেছে। পটল, ঢেঁড়শ ও ঝিঙে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে আরও কম, ৩০ টাকা কেজি। তবে বেগুন ও টমেটো আড়ত থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এদিকে শীতের আগাম সবজি শিমের দামও বেশ চড়া—কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

সবজির তুলনায় মাছের বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি আরও কম। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, পোয়া ২৬০, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

চিংড়ির দামও বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।

ইলিশের বাজারেও কমেনি দাম। ছোট আকারের জাটকা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯০০ টাকা কেজি। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা। আর দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকার ওপরে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের আকার, মান এবং জীবিত বা মৃত থাকার ওপর দামে পার্থক্য হয়। বাজারভেদেও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি হতে পারে।

আরএইচ/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।