দক্ষিণ পূর্ব

ফটিকছড়িতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

Istiyak
প্রকাশ : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঠিত : ২৩
ফটিকছড়িতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

ফটিকছড়িতে শ্বাসরোধ করে সামিহা হাকিম নিহা (১৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবী শ্বশুর বাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে তাঁকে মেরে ফেলেছে। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় গৃহবধুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের রাজু সোলতান বাড়ির প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে সামিহা হাকিম নিহার সাথে একই উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার মো. মারুফ পারভেজের ৬ মাস আগে সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা স্বামী- স্ত্রীর মাঝে পরকিয়া সন্দেহ দেখা দেয়। পরকিয়া নিয়ে তাঁরা একে অপরকে সন্দেহ করতে থাকে। এ নিয়ে তাঁরা উভয়ের মাঝে প্রায় ঝগড়া বিবাদ হতো।

মঙ্গলবার রাত ১১ টা নাগাদ নিহত নিহার স্বামী মারুফ পারভেজ নিহার বাড়িতে ফোন করে জানায় নিহা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাঁকে মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছি। পরে নিহার স্বামী ও তাঁর পরিজন নিহাকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহাকে মৃত ঘোষণা করে। এঘটনার পর স্বামী মারুপ ও তাঁর পরিজন নিহত নিহার মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।


খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহত নিহার মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।


নিহতের মা রুপা আকতার অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তার স্বামী মারুফ পারভেজ একাধিকবার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার সতর্ক করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ তার মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান জানান, 'গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা রুপা আকতার বাদী হয়ে মেয়ের স্বামী মারুফ পারভেজসহ সুনির্দিষ্ট ২ জনের নাম উল্লেখ ও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'


জেএফআই/দক্ষিণপূর্ব

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।