দক্ষিণ পূর্ব

৮ শ্রেণির মানুষ পাবেন না ফ্যামিলি কার্ড

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
পঠিত : ৫৮
৮ শ্রেণির মানুষ পাবেন না ফ্যামিলি কার্ড

ছবি

দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। নতুন এ নীতিমালায় আট ধরনের ব্যক্তি বা পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ নীতিমালা জারি করে। এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বড় পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি হলো।

নীতিমালা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন দেশের অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই কোটি নারী পরিবার প্রধানকে জিটুপি (সরকার থেকে ব্যক্তি) পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

নীতিমালায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা বহির্ভূত তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলে ব্যক্তি বা পরিবারটি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে না।

১. সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার।

২. পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতায় কর্মরত হলে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও এ সুবিধা পাবেন না।

৩. নারী পরিবার প্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা সমপর্যায়ের অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারী এ শর্তের বাইরে থাকবেন।

৪. পরিবারের কোনো সদস্যের নামে পাঁচ লাখ টাকার বেশি জাতীয় সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলে।

৫. পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে। এর মধ্যে কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি, মাইক্রোবাস এবং নির্দিষ্ট ধরনের থ্রি-হুইলার রয়েছে।

৬. পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসা থাকলে।

৭. পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে।

৮. বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে। এছাড়া কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় তালিকাভুক্ত প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। ‘ওয়ান-আইডি’ নামে এ নম্বর ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কেন্দ্রীয় পরিচিতি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এটি শুধু পরিচিতি নম্বর হিসেবে নয়, রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো হিসেবেও কাজ করবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

ফ্যামিলি কার্ডধারী নারী পরিবার প্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক, খাদ্য বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না।

কোনো নারী প্রধান আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি), বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা সমজাতীয় সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর সময় আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে।

তবে মনোনীত নারী পরিবার প্রধান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়মে অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগের সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি এমআইএস এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে এ সংযোগ থাকবে।

প্রয়োজনে সরকার যেকোনো সময় এ তালিকার পরিধি ও এপিআই সংযোগ পুনর্বিন্যাস করতে পারবে।

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রিতে থাকা তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি বা জালিয়াতি থাকলে তা শনাক্ত করতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে।

এর মাধ্যমে আবেদনকারীর আয়, সঞ্চয়, জমি, যানবাহন, কর প্রদান কিংবা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার বড় পরিসরে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করা হলো।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।