দক্ষিণ পূর্ব

বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াই বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১ দিন আগে
পঠিত : ৩৭
বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াই বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বেগম খালেদা জিয়া ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এবারই প্রথম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। তাঁর মৃত্যুর পর এটিই দলটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়ায় এবারের আয়োজন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে আবেগ ও স্মৃতির আবহ।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর প্রায় পাঁচ দশকে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করেছে দলটি।

বিএনপির ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে বেগম খালেদা জিয়ার নাম। স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আশির দশকে তিনি দলের নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি এ পদে ছিলেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর সরকারের সময় দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলেও বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ের পর দ্বিতীয়বারের মতো সরকারপ্রধান হন খালেদা জিয়া।

তবে রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার নানা প্রতিকূলতা ও বিতর্কে ঘেরা ছিল। ২০০৭ সালের পর রাজনৈতিক সংকট, মামলা ও কারাবাসের কারণে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ার পর সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর অংশগ্রহণ আরও সীমিত হয়ে পড়ে। বিএনপি শুরু থেকেই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে।

পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া আর আগের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি স্মরণে থাকছেন দলটির সাবেক চেয়ারপারসন। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটির ৪৮ বছরের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সরকার পরিচালনার অধ্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে ধরে রাখা হবে। দীর্ঘ সময় তিনি দলের ঐক্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নেতা-কর্মীদের ঐক্য এবং নতুন নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি দলের নেতৃত্বে নতুন পর্বের সূচনা করেছেন। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে বিএনপিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া এখন তাঁর জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

তাই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির কাছে একই সঙ্গে স্মরণ ও ভবিষ্যতের বার্তা দেওয়ার উপলক্ষ। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামকে সামনে রেখে দলটি আগামী দিনের রাজনৈতিক পথরেখা তুলে ধরতে চাইবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া যে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পথ দেখিয়েছেন, সেই পথেই বিএনপি এগিয়ে যাবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৪৮ বছরের পথচলায় বিএনপির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে আছে। আর সেই ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন তাই বিএনপির জন্য শুধু প্রতিষ্ঠার দিন উদ্‌যাপন নয়—বরং পুরোনো রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সঙ্গে নিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশেরও প্রতীকী মুহূর্ত।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।