চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি ও চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনের আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। এ সময় সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর সম্মিলিত সংগ্রাম। এ আন্দোলনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তবে ছাত্রশিবির সে সময় প্রকাশ্য প্রতিরোধে সক্রিয় না থেকে ছাত্রলীগের ভেতরে গুপ্ত রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন এবং ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে সহাবস্থানের মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছিল।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে এই ছাত্রদল নেতা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সরাসরি দায় ছাত্রলীগের। তবে ক্যাম্পাসে সন্দেহ, বিভাজন ও নির্যাতনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ছাত্রশিবিরেরও রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় রয়েছে বলে দাবি করেন।
এ ছাড়া চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসুর বর্তমান ভিপি ইব্রাহিম রনির একটি পুরোনো ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কথা বলার ধরন ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। তাদের মতে, এ ধরনের আচরণ একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার প্রতি অসম্মান এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইব্রাহিম রনির বিরুদ্ধে হল দখল, ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ রাখা এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দাউদ সালমানকে ঘিরে মব তৈরির মাধ্যমে দলীয় স্বার্থ হাসিলের চেষ্টার অভিযোগ তোলে ছাত্রদল। এসব কর্মকাণ্ডকে ক্যাম্পাসে নতুন করে কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই কাটছাট করা ভিডিও ছড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ চাকসু ভিপি ইব্রাহীম রনির। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘চাকসু আয়োজিত ১৩ অক্টোবরের বিভিন্ন কর্মসূচিকে সামনে রেখে ৬ বছর পূর্বে আমার অভিনীত একটি ভিডিওর খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে ছাত্রদল নানামুখী ষড়যন্ত্রের চেষ্টায় লিপ্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত আমার ডিপার্টমেন্টের (ইতিহাস বিভাগ, চবি) বার্ষিক শিক্ষা সফরের। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন ডিপার্টমেন্টের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ ও অনার্স-মাস্টার্সের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ভাই-বোনেরা। অনুষ্ঠানের অভিনয় পর্বে হানিফ সংকেত, বেগম খালেদা জিয়া, ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীদের কথা বলার ধরন অনুকরণ করে অভিনয় করেছিলাম। সেটি ছিল একটি বিনোদনমূলক পরিবেশনা, কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রকাশের উদ্দেশ্যে নয়। অথচ এই মিমিক্রি ভিডিও থেকে শুধু মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অংশটুকু কেটে সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলাচ্ছে ছাত্রদল।’
ইব্রাহীম রনি আরও যোগ করেন, ‘উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয় ছাড়া কিছুই নয়। আমাদের শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টাই যেন তাদের একমাত্র কর্মসূচি। আগামীকাল চাকসুর অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর প্রোগ্রাম, প্রতিনিধি সম্মেলন ও জাতীয় রিসার্চ ফেস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অপপ্রচার করে আমাদের পথচলা কেউ থামাতে পরেনি, পারবে না। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের কাজ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের ৬ দাবি:
১. চাকসুর ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি কর্তৃক ব্যঙ্গাত্মক ঘটনার বিষয়ে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে জানাতে হবে।
২. ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনিকে পবিত্র কোরআনের আয়াত 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' অবমাননাকারী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপনের জন্য দেশ, দেশের জনগণ এবং সর্বোপরি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. ছাত্রশিবিরকে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তাদের ভূমিকা ও গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ছাত্রশিবিরের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, গুপ্ত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৬. ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন ভুঁইফোড় পেজগুলোর অ্যাডমিন বের করে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং পেজগুলো বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
আর /দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।