দক্ষিণ পূর্ব

আশুরার তাৎপর্য ও কারবালার শিক্ষা

Masud forhan
প্রকাশ : ৬ জুলাই ২০২৫
পঠিত :
আশুরার তাৎপর্য ও কারবালার শিক্ষা
 নিজস্ব প্রতিবেদক: 

আশুরা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা মত রয়েছে। অনেকেই না জেনে নানান মত দিয়ে থাকেন। কিন্তু আশুরা আসলে কি?  কি এর তাৎপর্য? আর কারবালার সাথে আশুরা সম্পর্কই বা কী? দক্ষিণ পূর্বেও এই প্রতিবেদনে পাঠকের সেসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 

আরবি মাসের ১০ মহরম অর্থই আশুরা। ইসলামি পরিভাষায় মহররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা নামে অভিহিত করা হয়। সৃষ্টির আদি থেকে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে আশুরার তাৎপর্যকে স্বীকার করা হয়েছে। হিজরি সনের প্রবর্তন মহররম মাস ইতিহাসে আরও স্মরণীয়। কারবালার হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা মহররম ও আশুরাকে আরও বেশি মহিমান্বিত ও অবিস্মরণীয় করে রেখেছে। 

আশুরার ইতিহাস:
হরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, স্থিতি, উত্থান ও পৃথিবীতে অবতরণ, হজরত নূহ (আ.)-এর নৌযানের যাত্রারম্ভ এবং বন্যা অবস্থার সমাপ্তি আশুরার ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি, হজরত ইউনুছ (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি, হজরত দাউদ (আ.)-এর জালুত বাহিনীর ওপর বিজয় লাভ করা, হজরত আইয়ুব (আ.)-এর ১৮ বছর অসুস্থতার পর রোগমুক্ত হওয়া, হজরত ঈসা (আ.)-কে আসমানে তুলে নেওয়াসহ বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী আশুরা। (তাফসিরে তাবারি, ইবনে জারির)।

কোরআন শরীফে বর্ণণা আছে, ‘আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কাছে ১২ মাসের মধ্যে ৪টি মাস অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ, মহররম, রজব মাস অতিসম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ।’ (সুরা-৯ তওবা, আয়াত: ৩৬)। হাদিস শরিফে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। 

আশুরার আমল
আশুরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা পালন করা। এই রোজা সব নবী-রাসুলের আমলেই ছিল। প্রিয় নবী (সা.) মক্কা মুকাররমায় থাকতে আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসে দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে পারলেন, এদিনে মুসা (আ.) সিনাই পর্বতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত লাভ করেন। এদিনই তিনি বনি ইসরায়েলকে ফেরাউনের কয়েদখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং এদিনই তিনি বনি ইসরায়েলদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যান। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখেন।

মহানবী (সা.) বললেন, ‘মুসা (আ.)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ। তিনি মহররমের ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ মিলিয়ে দুটি রোজা রাখতে বললেন, যাতে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য না হয়। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে রমজানের রোজার পর আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ। এ মাসের নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত রমজান মাস ব্যতীত অন্য যেকোনো মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (মুসলিম ও আবুদাউদ)। 

আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলে করিম (সা.) বলেন, ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী; আল্লাহ তাআলা এর অসিলায় অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘রমজানের রোজার পর মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ, যেমন ফরজ নামাজের পরে শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ সবচেয়ে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন। (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমাদ)। উম্মুল মুমিনিন হজরত হাফসা (রা.) বলেন, রাসুলে আকরাম (সা.) চারটি কাজ জীবনে কখনো পরিত্যাগ করেননি। আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশকের রোজা, আইয়ামে বিদের রোজা, ফজর ওয়াক্তে ফরজের পূর্বে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ। 

এম 


মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।