দক্ষিণ পূর্ব

তোরণ-পতাকায় সেজেছে চট্টগ্রাম, আজ ৫৫তম জশনে জুলুস

Jalal Rumi
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১ সপ্তাহ আগে
পঠিত : ৫০
তোরণ-পতাকায় সেজেছে চট্টগ্রাম, আজ ৫৫তম জশনে জুলুস

জশনে জুলুসে মুখর নগরের রাজপথ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুস। এ আয়োজনকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে বন্দরনগরী। নগরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। টাঙানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা। কোথাও চলছে আলোকসজ্জা, কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোটের সাজ্জাদনশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহর নেতৃত্বে এবারের জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হবে।

dokkhinpurbo-com.edda17de1fc4f96e4b189ac7738f5938.webp?v=1787686485

আয়োজকরা জানান, বুধবার সকাল ৮টায় নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়া থেকে জুলুসের সূচনা হবে। মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা ও লালখানবাজার হয়ে জুলুসটি টাইগারপাস মোড়ে পৌঁছাবে। পরে একই পথে ফিরে জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।


জুলুস শেষে জোহরের নামাজের পর দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে আল্লামা সাবির শাহর সঙ্গে অতিথি হিসেবে থাকবেন সৈয়দ মুহাম্মদ কাশেম শাহ ও সৈয়দ মুহাম্মদ আকিব শাহ।


সবুজ পতাকা ও তোরণে উৎসবের আবহ


জুলুসকে সামনে রেখে মঙ্গলবার নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ষোলশহর, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখানবাজার ও টাইগারপাস এলাকায় চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ।


সড়কের দুই পাশে ও বিভিন্ন স্থাপনায় শোভা পাচ্ছে সবুজ পতাকা। কোথাও বড় তোরণে লেখা হয়েছে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা ও নবীপ্রেমের নানা বাণী। আবার কোথাও জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে টাঙানো হয়েছে বিভিন্ন বার্তা। সব মিলিয়ে নগরের প্রধান সড়কগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।


জশনে জুলুসের আয়োজক আনজুমান ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোসাহেব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ জুলুসে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে গাউছিয়া কমিটির বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপনায় লোকজন আসবেন। এবার প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তারা আশা করছেন।

যান চলাচলে বিশেষ প্রস্তুতি

বিপুল মানুষের সমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জুলুসের সামনে-পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন না চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।


উত্তর চট্টগ্রাম থেকে আসা গাড়িগুলোর জন্য এ কে খান মোড়, অক্সিজেন বাস টার্মিনাল, অনন্য আবাসিক এলাকা ও পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে আসা গাড়িগুলো কর্ণফুলী ব্রিজ থেকে বাকলিয়া এক্সেস রোড ও পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকায় পার্কিং করবে। মহানগরের দক্ষিণ অংশ থেকে আসা গাড়িগুলো দেওয়ান হাট এলাকায় পার্কিং করবে।


জুলুসের নির্ধারিত রুটে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং না করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


৫৫ বছরের ঐতিহ্য


চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুসের আয়োজন শুরু হয় ১৩৯৫ হিজরি, অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে। প্রথম জুলুসে নেতৃত্ব দেন আনজুমান ট্রাস্টের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুর মোহাম্মদ আলকাদেরী।


১৯৭৬ সালে কাদেরিয়া তরিকার দিকপাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ বাংলাদেশে এসে জুলুসে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৮৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নেতৃত্ব দেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ। ২০২৪ সাল থেকে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ জশনে জুলুসের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।


প্রতিবছর চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুসে মুখর হয়ে উঠবে নগরের রাজপথ—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।


তোরণ, পতাকা আর আলোকসজ্জায় ইতোমধ্যে বদলে গেছে চট্টগ্রামের চেনা চেহারা। এখন অপেক্ষা ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুসের।

আরএইচ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।