দক্ষিণ পূর্ব

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
পঠিত : ৩১
উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত

ছবি

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক ও ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। শনিবার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এ রদবদলের ঘোষণা দেয় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ।

রোববার (৩০ আগস্ট) কেসিএনএর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের ‘কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনা’ অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারানোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেও নো কোয়াং চোলের পদাবনতি হয়েছে। তাকে দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গি। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ক্ষমতাসীন দলের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে।

সামরিক ও দলীয় নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদোন্নতির ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন কিম জং উন। শনিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কেসিএনএ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটির দাবি, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে অবদান রেখেছেন। তবে কী ধরনের অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কেসিএনএর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রতি কিছু ‘বিশেষ প্রযুক্তি’ উদ্ভাবন করেছে। এসব প্রযুক্তি দেশটির যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে জুনের শেষ দিকে কিম জং উন নতুন একটি দূরপাল্লার একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা ও কামানের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই বড় রদবদলের ঘোষণা এলো।

পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় হামলার প্রস্তুতি হিসেবে অভিযোগ করে আসছে। এ বছর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। চলতি বছরেই নতুন করে এমন বৈঠক হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ‘ফ্রিডম এজ’ নামে ত্রিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এ মহড়া প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অনুশীলন হিসেবে পরিচালিত হবে।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।