চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছর (২০২৫) এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৭ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপর এ ফল দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বোর্ডের অধীনে মোট ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন। অপরদিকে, ২০২৫ সালে ১১৫টি কেন্দ্রে ২৮১টি কলেজের ১ লাখ ২ হাজার ২৭০ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৯৭০ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছরও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। তবে উভয় ক্ষেত্রেই গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও পাসের হারে পার্থক্য রয়েছে। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলাফলে পৃথক চিত্র উঠে এসেছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় পাসের হার তুলনামূলক বেশি হলেও পার্বত্য জেলাগুলোর ফলাফলে পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে।
জেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় এ হার ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ পরিসংখ্যানে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে খাগড়াছড়ি জেলায়।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর পাসের হার শূন্য—এমন কলেজের সংখ্যা তিনটি। গত বছর এ ধরনের কলেজের সংখ্যা ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন কলেজের সংখ্যা ২০২৬ সালে ছয়টি, যা গত বছর ছিল আটটি। এছাড়া ১০০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে এমন কলেজগুলোর মধ্যেও ফলাফলের তারতম্য রয়েছে।
সার্বিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোর কয়েকটিতে পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদান কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
ইই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।