দক্ষিণ পূর্ব

একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৫ নভেম্বর ২০২৬ ০১:০৩ দুপুর
পঠিত : ২৯
একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী

ছবি

Degchibarictg

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই ধারাকে এগিয়ে নেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ৭ নভেম্বরের চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর গুম, খুন ও রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে চায় না। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেকোনো আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের স্থানীয় এজেন্টদের প্রতিহত করতে হবে।

গার্মেন্টসশিল্পে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আশ্বাস দেওয়ার পর প্রকৃত শ্রমিকদের বড় অংশ আন্দোলন থেকে সরে গেছেন। এখন একটি পক্ষ উসকানি দিয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পুলিশের গাড়ি ও বক্সে আগুন দেওয়ার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের ইন্ধন রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাংক লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। সেই লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে দেশের মানুষ আর সেই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চায় না।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর মানুষ আস্থা রেখেছিল। পরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। ক্ষমতায় আসার পরপরই দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রাফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সমাবেশ শেষে কাজীর দেউড়ি থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখানে গিয়ে শেষ হয়।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।