দক্ষিণ পূর্ব

এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৪ সকাল
পঠিত : ৬
এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের
এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। আগামী ২৭ অক্টোবর জেলার ১৬টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণের পর সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করে বাঁচিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। এ জন্য অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ হাজার চারা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো চারা নষ্ট হলে তা প্রতিস্থাপন করা যায়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান এবং ‘এক দিনে লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’ প্রত্যয়ে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৭ অক্টোবর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ শেষে বিকেলে ডিসি পার্কে তাঁর হাতে এক লাখতম চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচি সামনে রেখে চট্টগ্রাম সদর সার্কেল ভূমি অফিসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে চারা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা এই গাছগুলো শুধু লাগাব না, সঠিকভাবে পরিচর্যাও করব।’

জেলা প্রশাসক জানান, চারার বেঁচে থাকার হার বাড়াতে তুলনামূলক বড় ও মানসম্মত চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোপণের পর কোনো চারা দুর্বল হয়ে পড়লে বা নষ্ট হলে তা প্রতিস্থাপন করা হবে। এক লাখ চারা বাঁচিয়ে রাখাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপকূলীয় এলাকায় নারকেলগাছ লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন, উপকূল ও সাগরপাড়ে নারকেলগাছের বৃদ্ধি ও ফলনের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এ কারণে সন্দ্বীপের একটি বড় অংশ নারকেলগাছে আচ্ছাদিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য উপকূলীয় এলাকাতেও পরিবেশের উপযোগী গাছ লাগানো হবে।

উপজেলাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এসব চারার মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আমড়া, মেহগনি, গর্জন, আমলকী, হরীতকী, জারুল ও বকুল। চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন স্থানে চারা রোপণের জন্য ইতোমধ্যে গর্ত তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

কর্মসূচির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ২ হাজার ২৭৫টি নারকেল চারা বিতরণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ডিসি পার্ক ও জেলা পুলিশকে ৫০০টি করে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও বিমানবন্দরকে ৩০০টি করে, সমাজসেবা ও চিড়িয়াখানাকে ১৫০টি করে এবং এসআরবি ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ১০০টি করে চারা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জমিয়াতুল ফালাহ, হজ ক্যাম্প ও ডিজিএফআইকে ৫০টি করে, স্টেডিয়ামকে ১৫টি এবং সার্কিট হাউসকে ১০টি চারা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, কর্মসূচির জন্য সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন থেকে ৩০ হাজার, বিভিন্ন এনজিও থেকে ১৭ হাজার এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ থেকে ১০ হাজার চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর, নৌবাহিনীসহ অন্যান্য উৎস থেকেও চারা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি চারা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হবে।

এ কর্মসূচিতে পুলিশ বিভাগ, সিএমপি, ডিজিএফআই, জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস), সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, চিড়িয়াখানা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে সব চারা রোপণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচর্যা করলে গাছগুলো একসময় বড় হবে এবং ফল দেবে। পরিবেশ রক্ষায় এ উদ্যোগ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সবার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।