দক্ষিণ পূর্ব

এক লাখ টনের বেশি সৌদি ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে এমটি নিনেমিয়া

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬
পঠিত : ১০
এক লাখ টনের বেশি সৌদি ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে এমটি নিনেমিয়া

ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।

 

বুধবার দুপুর ১টার দিকে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে এটি তৃতীয় ক্রুড অয়েল চালান। এমটি নিনেমিয়া গত ৩০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর লাইটারিং কার্যক্রম শুরু হবে।

 

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থানরত ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। এছাড়া জুনের শেষ সপ্তাহে আরও এক লাখ টন সৌদি ক্রুড অয়েল পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

 

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যও উৎপাদিত হচ্ছে।

 

২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ এমটি নিনেমিয়া কর্ণফুলী নদী হয়ে ডলফিন জেটিতে প্রবেশের উপযোগী নয়। ফলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ছোট ট্যাংকারের মাধ্যমে জাহাজ থেকে তেল খালাস করে তা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় ক্রুড অয়েল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মজুত কমে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল। পরে এমটি নিনেমিয়ার আগের চালানের তেল দেশে পৌঁছানোর পর গত ৮ মে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময়ে সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তেলবাহী জাহাজের বার্থিং, লাইটারিং এবং খালাস কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।জাহাজটিতে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।