দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত সেবা দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’।
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশের পর প্রথম কর্মদিবস রোববার (২৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
নতুন এই সংস্থা গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবা একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের আওতায় আসছে।
নতুন ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীরা অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত সেবা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা পেতে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। এতে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে আলাদাভাবে যোগাযোগের প্রয়োজন কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিনিয়োগসেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পারমিটের জন্য আবেদন এবং সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে ১৪ দিনের মধ্যে লাইসেন্স দেওয়ার সময়ভিত্তিক কাঠামো কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের পাশাপাশি সরকারের অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা ও অন্যান্য সম্পদ উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ছোট আকারের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এটি শুধু তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ নয়। বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্র করে সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, সহজ ও জবাবদিহিমূলক করার একটি বড় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আরও সমন্বিত ও দ্রুত সেবা পাবেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা কমিয়ে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে একীভূত হওয়া তিন প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বহাল রেখেই ইনভেস্ট বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও আগের শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।