সরকারি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ও এর সঙ্গে যুক্ত ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হচ্ছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড’ শীর্ষক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এ চুক্তি হচ্ছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে কনসেশন চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পিপিপি ও জিটুজি কাঠামোয় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিষয়টি দর-কষাকষির পর্যায়ে পৌঁছায়।
শ্রমিকদের আন্দোলন এবং আলোচনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের আপত্তির কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়। গত জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন। গত ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা ঘোষণা দেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা বলেন, নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া হলে জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম স্কপ, বন্দর রক্ষা কমিটি এবং আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠন ও জোটের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। গত অর্থবছরে এনসিটির মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের মাধ্যমে এনসিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশি অপারেটরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্য প্রধান টার্মিনালের মধ্যে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।